বারুইপুর মহকুমা আদালত চত্বর (বারুইপুর কোর্ট)
Baruipur Sub-Divisional Court Complex
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম প্রধান বিচার বিভাগীয় চত্বর ও মহকুমা আইনি পরিষেবা কেন্দ্র
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও এক নজরে তথ্য (Key Highlights)
স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও গুরুত্ব
বারুইপুর শহরের প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় কেন্দ্রবিন্দু হলো 'বারুইপুর মহকুমা আদালত চত্বর' (Baruipur Sub-Divisional Court Complex)। ঐতিহাসিক কাছারি ময়দানের সন্নিকটে এবং কুলপী রোডের পাশে অবস্থিত এই সুবিশাল আদালত চত্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত বিচারালয়।
এখানে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM), দেওয়ানি বিচারক (Civil Judge Senior & Junior Division), জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং মহকুমা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (Sub-Divisional Legal Services Committee) কর্মরত। প্রতিদিন বারুইপুর মহকুমার ৫টি ব্লক (বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড়, জয়নগর ও ক্যানিং অঞ্চল) থেকে কয়েক হাজার মানুষ বিচার, আইনি পরামর্শ, নোটারি ও দলিল নিবন্ধনের কাজে এখানে উপস্থিত হন।
আলোকচিত্র ও দৃশ্যপট (Photo Gallery)
মোট 1 টি ছবি
বারুইপুর মহকুমা আদালত ভবন ও বার অ্যাসোসিয়েশন
Baruipur Subdivisional Court & Bar Association Complex
ভিডিও ট্যুর ও তথ্যচিত্র (Video Tour)
ভিডিও দেখুনবারুইপুর মহকুমা আদালত ও বিচার ব্যবস্থার পরিক্রমাইউটিউবে খুলুন
গুগল ম্যাপে অবস্থান ও ডিরেকশন (Google Maps & GMB)
লাইভ জিপিএসনিচের ইন্টার্যাক্টিভ গুগল ম্যাপের মাধ্যমে সঠিক অবস্থান দেখে নিন অথবা সরাসরি দিকনির্দেশনা ও রিভিউ দেখতে বাটনগুলিতে ক্লিক করুন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিকাশ
১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসানের পর যখন বারুইপুরকে মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই এখানে মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট ও মুন্সেফ আদালত চালু হয়। বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৬৪ থেকে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে এই কাছারি প্রাঙ্গণেই বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে বসেই তিনি তাঁর অমর উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' ও 'কপালকুণ্ডলা'-র অংশবিশেষ রচনা করেছিলেন।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আদালতের পরিকাঠামো বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বারুইপুর ক্রিমিনাল ও সিভিল বার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে কয়েক শত অভিজ্ঞ আইনজীবী যুক্ত রয়েছেন। নতুন বহুতল বিচার ভবন এবং ডিজিটাল ই-কোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে বিচারপ্রার্থীদের পরিষেবা আরও দ্রুত ও আধুনিক করা হয়েছে।
প্রধান নাগরিক সুবিধা ও সেবাসমূহ
যাতায়াত ও পৌঁছানোর নির্দেশিকা
বারুইপুর জংশন রেল স্টেশন থেকে কুলপী রোডের দিকে রিকশা বা টোটোয় চেপে মাত্র ৩-৪ মিনিটে কাছারি ময়দান ও বারুইপুর কোর্ট চত্বরে যাওয়া যায়। দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার।
প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্র:বারুইপুর আদালতে কি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়?
উ:হ্যাঁ, আদালত চত্বরে অবস্থিত মহকুমা লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটির (SDLSC) কার্যালয় থেকে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকরা বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবীর সহায়তা পেতে পারেন।
প্র:নোটারি পাবলিক বা হলফনামা করার সময় কী?
উ:সাধারণত আদালতের কাজের দিনে সকাল ১০:৩০ থেকে বিকাল ৪:০০ পর্যন্ত আইনজীবী ও নোটারি পাবলিকদের মাধ্যমে হলফনামা সম্পাদন করা যায়।
প্র:বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি কীভাবে এই আদালতের সাথে যুক্ত?
উ:১৮৬৪-১৮৬৯ সাল পর্যন্ত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এই কাছারিতেই বিচার পরিচালনা করেছিলেন এবং তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী রচনা করেছিলেন।