বারুইপুর টেলি একাডেমি (পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি)
West Bengal Tele Academy (Baruipur Film City)
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের শুটিং, প্রশিক্ষণ এবং প্রি-প্রোডাকশন থেকে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যন্ত কাজের জন্য রাজ্য সরকারের তৈরি স্টুডিও কমপ্লেক্স
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও এক নজরে তথ্য (Key Highlights)
স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি (লোকমুখে "বারুইপুর ফিল্ম সিটি") পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের অধীনে গড়ে ওঠা পূর্ব ভারতের প্রথম ও বৃহত্তম সমন্বিত সরকারি টেলিভিশন স্টুডিও কমপ্লেক্স। ২০২২ সালের ১০ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১০ একর জমির ওপর ₹১৩২.৫ কোটি ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক শুটিং ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন।
এক নজরে পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সরকারি নাম | পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি (West Bengal Tele Academy) |
| জনপ্রিয় নাম | বারুইপুর টেলি একাডেমি, বারুইপুর ফিল্ম সিটি |
| উদ্বোধন | ১০ মার্চ ২০২২ (ভার্চুয়ালি, কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক) |
| জমির পরিমাণ | প্রায় ১০ একর |
| নির্মাণ ব্যয় | প্রায় ₹১৩২.৫ কোটি (টিভি৯ বাংলা ও অন্যান্য সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী) |
| নির্মাতা সংস্থা | কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) |
| পরিচালনা | রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| স্টুডিও সুবিধা | ৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেগা স্টুডিও, প্রতিটি প্রায় ৭,২০০ বর্গফুট |
| একাডেমিক ব্লক | ৫০,০০০ বর্গফুটের বেশি জায়গা জুড়ে প্রশিক্ষণ ও ক্লাসরুম |
| অন-ক্যাম্পাস হোস্টেল | চারতলা ভবন (শিক্ষার্থী ও কলাকুশলীদের থাকার জন্য) |
| এলাকা / অবস্থান | টং তলা, ধোপাগাছি সংলগ্ন, বারুইপুর (বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র) |
| সাধারণ প্রবেশ | নিয়মিত পর্যটনকেন্দ্র নয়; প্রবেশ শুটিং, প্রশিক্ষণ ও অনুমতি সাপেক্ষে |
এই কমপ্লেক্স কী এবং কেন তৈরি হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি হল রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি একটি সমন্বিত টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র কমপ্লেক্স। উদ্বোধনের দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে সিরিয়াল, নন-ফিকশন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশনের কলাকুশলীদের জন্য "এক ছাদের তলায়" শুটিং ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র বলে বর্ণনা করেছিলেন। ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব ভারতে টেলিভিশন ও সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এমন সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তৈরি কমপ্লেক্স এই প্রথম।
টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় ফ্লোরের দীর্ঘদিনের স্থানাভাব মেটাতে এবং কলকাতার উপকণ্ঠে বিশ্বমানের শুটিং অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।
নামের বিষয়ে একটি জরুরি তথ্য: সরকারি নথিপত্রে এই প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নাম পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি (West Bengal Tele Academy)। "বারুইপুর ফিল্ম সিটি" নামটি স্থানীয় মানুষ ও সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচলিত হলেও এটি আলাদা কোনও পৃথক অফিসিয়াল সত্ত্বা নয়। সাধারণ মানুষের খোঁজার সুবিধার জন্য দুটি নামই এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
কী কী সুবিধা রয়েছে কমপ্লেক্সে
উদ্বোধনের সময়কার সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০ একরের ক্যাম্পাসে রয়েছে:
- চারটি এয়ার-কন্ডিশন্ড স্টুডিও: ফিকশন ও নন-ফিকশন উভয় ধরনের শুটিংয়ের জন্য নির্মিত। প্রতিটি স্টুডিও ফ্লোরের আয়তন প্রায় ৭,২০০ বর্গফুট।
- PCR সুবিধাযুক্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষ: লাইভ ও রেকর্ডেড শুটিংয়ের উচ্চমানের প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুম (PCR)।
- একাডেমিক ব্লক: ৫০,০০০ বর্গফুটের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ক্লাসরুম, টেলিভিশন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মিডিয়া ওয়ার্কশপের সুব্যবস্থা।
- চারতলা হোস্টেল ভবন: শিক্ষার্থী এবং দূরদূরান্ত থেকে শুটিংয়ে আসা কলাকুশলীদের জন্য আধুনিক ডাইনিং ও আবাসন সুবিধা।
- প্রশাসনিক ভবন ও পোস্ট-প্রোডাকশন স্যুট: কনফারেন্স রুম, ভিআইপি মেকআপ রুম, ডাবিং ও সাউন্ড এডিটিং ল্যাব এবং স্টোর রুম।
প্রশিক্ষণ কোর্স ও মিডিয়া স্টাডিজ
একাডেমিতে টেলিভিশন ও বিনোদন শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ২ বছর ৪ মাসের পিজি ডিপ্লোমা কোর্স চালুর রূপরেখা তৈরি হয়:
- প্রধান পাঠ্যক্রম: অভিনয় (Acting), টিভি সাংবাদিকতা (TV Journalism), ডিরেকশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (Direction & Production), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), এবং আর্ট ডিরেকশন (Art Direction)।
- আসন সংখ্যা: সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ব্যাচে আসন সংখ্যা ৪২টি।
- অন্যান্য কর্মসূচি: টেলিভিশনের জন্য তথ্যচিত্র নির্মাণ, সাউন্ড টেকনোলজি, স্বল্পমেয়াদী কর্মশালা ও চলচ্চিত্র মূল্যায়ন সেমিনার।
ভর্তি নির্দেশিকা: কোর্সের যোগ্যতা, ফি কাঠামো, চলতি ব্যাচ এবং ভর্তির সময়সূচি পরিবর্তনশীল। আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি ও রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের অফিসিয়াল সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া আবশ্যক।
অবস্থান ও যাতায়াত নির্দেশিকা
কমপ্লেক্সটি বারুইপুরের টং তলা (ধোপাগাছি / হ্যাপি ভ্যালি সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত। কামালগাজি থেকে বারুইপুরের পদ্মপুকুর পর্যন্ত নবনির্মিত উড়ালপুল চালু হওয়ায় কলকাতা থেকে বারুইপুর পৌঁছানো এখন অত্যন্ত দ্রুত ও সহজ।
- গাড়ি বা ক্যাবে: ইএম বাইপাস এক্সটেনশন ও কামালগাজি ফ্লাইওভার হয়ে সরাসরি বারুইপুর বাইপাস ধরে পৌঁছানো যায়। গন্তব্য হিসেবে গুগল ম্যাপে "West Bengal Tele Academy" খুঁজুন।
- লোকাল ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার যেকোনো ট্রেনে (বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার, নামখানা, ক্যানিং বা লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল) বারুইপুর জংশনে নেমে স্টেশন চত্বর থেকে টোটো বা অটো পাওয়া যায়।
- ঠিকানা: টং তলা, ধোপাগাছি রোড, বারুইপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ - ৭০০১৪৫।
সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জরুরি কথা
এটি একটি সরকারি শুটিং ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স; এটি কোনও খোলা পর্যটনকেন্দ্র বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নয়। এখানে পেশাদার শুটিং ও শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়, তাই:
- বিনা অনুমতিতে বা উপযুক্ত পাস ছাড়া প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।
- শুটিং চলার সময় অযথা ভিড় করা, গোপন ভিডিও রেকর্ডিং করা বা শুটিংয়ে ব্যস্ত শিল্পীদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।
- ভবিষ্যতে কোনো প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী বা ওপেন-ডে আয়োজিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নোটিশ দেখে তবেই প্রবেশ করুন।
- শুটিং ফ্লোর বুকিং কিংবা কোর্স সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর বা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী ফিল্ম-সংযোগ
বারুইপুরে চলচ্চিত্র ও নাট্যচর্চার ঐতিহ্য বহু দশকের পুরোনো। বারুইপুরের শতাব্দীপ্রাচীন রায়চৌধুরী রাজবাড়ি বাংলা সিনেমা ও ধারাবাহিকের এক ঐতিহাসিক শুটিং স্পট হিসেবে খ্যাত। পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি সেই ধারাবাহিকতাকে বিশ্বমানের আধুনিক পরিকাঠামোয় রূপ দিয়েছে। শহরের রাজবাড়ি ও অন্যান্য ঐতিহ্যের কথা বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের বারুইপুর ভ্রমণ গাইড।
আলোকচিত্র ও দৃশ্যপট (Photo Gallery)
মোট 1 টি ছবি
বারুইপুর ফিল্ম সিটি ও টেলি-অ্যাকাডেমি শুটিং ফ্লোর
Baruipur Film City & Tele-Academy Shooting Grounds
ভিডিও ট্যুর ও তথ্যচিত্র (Video Tour)
ভিডিও দেখুনপশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি উদ্বোধন ও স্টুডিও রূপরেখা (বারুইপুর)ইউটিউবে খুলুন
গুগল ম্যাপে অবস্থান ও ডিরেকশন (Google Maps & GMB)
লাইভ জিপিএসনিচের ইন্টার্যাক্টিভ গুগল ম্যাপের মাধ্যমে সঠিক অবস্থান দেখে নিন অথবা সরাসরি দিকনির্দেশনা ও রিভিউ দেখতে বাটনগুলিতে ক্লিক করুন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিকাশ
কলকাতার টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ায় আধুনিক স্পেসের সংকট নিরসনে এবং তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মানের মিডিয়া প্রশিক্ষণ দিতে বারুইপুরের টং তলা এলাকায় এই একাডেমি গড়ে তোলে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। ২০২২ সালের ১০ মার্চ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ ও বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক পি উল্গানাথন, পুলিশ সুপার এবং টালিউডের বিশিষ্ট শিল্পীরা। বর্তমানে এখানে নিয়মিত মেগা ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম এবং মিডিয়া কোর্সের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান নাগরিক সুবিধা ও সেবাসমূহ
যাতায়াত ও পৌঁছানোর নির্দেশিকা
কামালগাজি-পদ্মপুকুর ফ্লাইওভার ও ইএম বাইপাস হয়ে কলকাতা থেকে গাড়িতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় বারুইপুর জংশনে নেমে সরাসরি টোটো বা অটোতে টং তলা টেলি একাডেমিতে পৌঁছানো যায়।
প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্র:বারুইপুর টেলি একাডেমি ও বারুইপুর ফিল্ম সিটি কি একই জায়গা?
উ:হ্যাঁ। এই প্রতিষ্ঠানের সরকারি নথিবদ্ধ নাম "পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি" (West Bengal Tele Academy)। স্থানীয়ভাবে ও কথ্যভাষায় এটি "বারুইপুর ফিল্ম সিটি" নামে সমধিক পরিচিত।
প্র:কবে এবং কে এই টেলি একাডেমি উদ্বোধন করেন?
উ:১০ মার্চ ২০২২ তারিখে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি বারুইপুর টেলি একাডেমির শুভ উদ্বোধন করেন।
প্র:কমপ্লেক্সটি কত বড় এবং কী কী সুবিধা রয়েছে?
উ:কমপ্লেক্সটি প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এতে ৪টি ৭,২০০ বর্গফুটের এয়ার-কন্ডিশন্ড স্টুডিও, ৫০,০০০ বর্গফুটের একাডেমিক ব্লক, PCR রুম এবং চারতলা বিশিষ্ট আবাসিক হোস্টেল রয়েছে।
প্র:এটি কে নির্মাণ করেছে এবং কারা পরিচালনা করেন?
উ:কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) প্রায় ₹১৩২.৫ কোটি ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেছে। এটি পরিচালনা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর।
প্র:সাধারণ দর্শনার্থীরা কি এখানে ঘুরে দেখতে পারেন?
উ:না, এটি কোনও সাধারণ উন্মুক্ত পর্যটনকেন্দ্র নয়। এখানে মূলত টিভি সিরিয়াল, সিনেমা শুটিং এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ চলে। পূর্বানুমতি বা অফিশিয়াল পাস ছাড়া সাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত।
প্র:এখানে কী কী কোর্স করানো হয়?
উ:এখানে অভিনয়, টিভি সাংবাদিকতা, ডিরেকশন অ্যান্ড প্রোডাকশন, কন্টেন্ট রাইটিং ও আর্ট ডিরেকশনের ওপর ২ বছর ৪ মাসের পিজি ডিপ্লোমা কোর্স চালুর কথা ঘোষিত হয়। প্রতি ব্যাচে ৪২টি করে আসন থাকে।