শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বারুইপুর অনলাইন - Baruipur Online
বারুইপুর পরিচিতি ও গাইডস্থাপিত: আনুমানিক ১৭শ-১৮শ শতক (সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার বংশের আমলে নির্মিত)বিনামূল্যে

বারুইপুর জোড়া শিব মন্দির

Baruipur Jora Shiva Mandir (Twin Atchala Temples)

অষ্টাদশ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা আটচালা যুগল শিব মন্দির ও পুণ্যতীর্থ

প্রধান বৈশিষ্ট্য ও এক নজরে তথ্য (Key Highlights)

বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন ধ্রুপদী আটচালা টেরাকোটা মন্দির
সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার বংশের ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক কীর্তি
মহা শিবরাত্রি ও নীলপূজায় সুবিশাল পুণ্যার্থী সমাগম
বারুইপুর জংশন স্টেশন ও পুরাতন বাজার থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব

স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও গুরুত্ব

বারুইপুরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন হলো বারুইপুর জোড়া শিব মন্দির। শহরের পুরাতন বাজার ও মদারাট রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই যুগল মন্দির দুটি বাংলার নিজস্ব ধ্রুপদী 'আটচালা' স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত।

প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই মন্দির দুটি সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার পরিবারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে প্রাচীন কষ্টিপাথরের দুটি পবিত্র শিবলিঙ্গ। স্থাপত্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যের কারণে সারা বছরই এখানে পূণ্যার্থী ও গবেষকদের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে মহা শিবরাত্রি, নীলপূজা ও শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবারে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে।

আলোকচিত্র ও দৃশ্যপট (Photo Gallery)

মোট 1 টি ছবি
বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী জোড়া শিব মন্দির ও চড়ক চত্বর

বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী জোড়া শিব মন্দির ও চড়ক চত্বর

Historic Jora Shiva Mandir & Charak Festival Grounds, Baruipur

ভিডিও ট্যুর ও তথ্যচিত্র (Video Tour)

ভিডিও দেখুন

বারুইপুরের প্রাচীন পুরাকীর্তি ও জোড়া শিব মন্দির পরিক্রমাইউটিউবে খুলুন

গুগল ম্যাপে অবস্থান ও ডিরেকশন (Google Maps & GMB)

লাইভ জিপিএস

নিচের ইন্টার‍্যাক্টিভ গুগল ম্যাপের মাধ্যমে সঠিক অবস্থান দেখে নিন অথবা সরাসরি দিকনির্দেশনা ও রিভিউ দেখতে বাটনগুলিতে ক্লিক করুন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিকাশ

বারুইপুরের সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার বংশের পূর্বপুরুষরা ধার্মিক ও শিল্পানুরাগী ছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে জমিদার বাড়ির চত্বরে এবং সংলগ্ন দীঘির পাড়ে একাধিক দেব-দেবী মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার মধ্যে এই জোড়া শিব মন্দির অন্যতম।

মন্দির দুটির কার্নিশ ও চালার গঠন বাংলার চালা স্থাপত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। প্রাচীনকালে মন্দির গাত্রে অপরূপ পোড়ামাটির (টেরাকোটা) ফলক ও দেব-দেবীর অলংকরণ বিদ্যমান ছিল, যার কিছু অংশ কালের নিয়মে পরিবর্তিত হলেও মন্দিরের মূল স্থাপত্য কাঠামো আজও অবিকল অক্ষত রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, আদি গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ ও তীর্থযাত্রীদের বিশ্রামের জন্য এই যুগল মন্দির ও সংলগ্ন ঘাট নির্মাণ করা হয়েছিল।

প্রধান নাগরিক সুবিধা ও সেবাসমূহ

নিত্য পুজো, অভিষেক ও সন্ধ্যারতি অনুষ্ঠান
মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে দিনরাতব্যাপী বিশেষ পুজো ও ভক্ত সমাগম
চৈত্র সংক্রান্তিতে ঐতিহ্যবাহী নীল উৎসব ও চড়ক মেলার পুণ্যস্নান
শ্রাবণ মাসে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জলঢালা ও শিবপূজা
হেরিটেজ গবেষক ও পর্যটকদের জন্য বাংলার প্রাচীন চালা স্থাপত্য দর্শনের সুযোগ

যাতায়াত ও পৌঁছানোর নির্দেশিকা

বারুইপুর রেলওয়ে জংশন থেকে পুরাতন বাজারমুখী অটো বা টোটোয় চেপে মাত্র ৫-৭ মিনিটের মধ্যে জোড়া শিব মন্দিরে পৌঁছানো যায়। স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ১.২ কিমি। কুলপী রোড কাছারি বাজার থেকেও সহজে হাঁটা পথে যাওয়া সম্ভব।

ঠিকানা: পুরাতন বাজার সংলগ্ন, মদারাট রোড লিঙ্ক, বারুইপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা - ৭০০১৪৪

প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্র:বারুইপুর জোড়া শিব মন্দির কোন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত?

উ:মন্দির দুটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধ্রুপদী আটচালা (Atchala) টেরাকোটা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।

প্র:মন্দিরটি কারা নির্মাণ করেছিলেন?

উ:অষ্টাদশ শতকে বারুইপুরের সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার পরিবারের উদ্যোগে এই যুগল শিব মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্র:এখানে প্রধান উৎসব কোনগুলি?

উ:মহা শিবরাত্রি, চৈত্র সংক্রান্তির নীলপূজা এবং শ্রাবণ মাসের সোমবারের জলাভিষেক এখানকার সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব।

তথ্যসূত্র ও সহায়ক সূত্র (References & Sources)

[1]
Temples and Heritage of South 24 Parganas
সূত্র: West Bengal Tourism & Heritage Board