বারুইপুরে বিজয়া সম্মিলনীর ৫০০ জনের রান্নার খরচের নামে জোরপূর্বক টাকা দাবির অভিযোগ: বাধা দেওয়ায় ইট দিয়ে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি, তদন্তে পুলিশ | Baruipur Extortion Case
বারুইপুরে রাজনৈতিক দলের বিজয়া সম্মিলনীর নামে ৫০০ জনের রান্নার বিপুল খরচ চেয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় ইট দিয়ে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মাঝে। ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বারুইপুর থানায়।
উৎসবের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচির নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় (তোলাবাজি) এবং চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রাণঘাতী হামলার গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এলাকায় আয়োজিত একটি দলীয় বিজয়া সম্মিলনী উপলক্ষে প্রায় ৫০০ জনের প্রীতিভোজের রান্নার যাবতীয় খরচ জোগাড়ের দাবি জানিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিপুল অঙ্কের এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে উদ্দেশ্য করে ইট ছুড়ে মারার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন দুষ্কৃতী দলবদ্ধভাবে এসে দলীয় বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন ও প্রীতিভোজের বিপুল খরচ বাবদ এককালীন মোটা টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগী এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দুষ্কৃতীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাস্তার ধার থেকে ভাঙা ইট তুলে তাঁর মাথায় মারার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের হস্তক্ষেপে কোনোমতে প্রাণরক্ষা পেলেও এলাকা ছাড়ার আগে অভিযুক্তরা তাঁকে চরম পরিণতির হুমকি দেয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আতঙ্কিত ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর বারুইপুর শহর ও পার্শ্ববর্তী বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, উৎসব ও বিজয়া সম্মিলনী হলো সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক ব্যানারের আড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এই ধরনের দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি না হলে এলাকায় ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বারুইপুর থানার কড়া অবস্থান ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বারুইপুর থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে। অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পাশাপাশি ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক উচ্চপদস্থ কর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, "উৎসব বা কোনো রাজনৈতিক সমাবেশের নাম করে জোরপূর্বক অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা কোনো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করলেও রেয়াত করা হবে না। এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।"
জরুরি পুলিশ ও চাঁদাবাজি বিরোধী হেল্পলাইন
- বারুইপুর থানা ডিউটি অফিসার: ০৩৩-২৪৩৩-৮২২২
- বারুইপুর পুলিশ জেলা কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-০৪০০
- জরুরি পুলিশ হেল্পলাইন: ১১২ / ১০০
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা: বারুইপুর অনলাইন নিরপেক্ষ ও ভয়হীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার সঠিক চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রিয়ব্রত মণ্ডল(Priyabrata Mondal)
নাগরিক পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামো সংবাদদাতা • রেলপথ, পৌর পরিষেবা ও গণপরিবহন
শিয়ালদহ দক্ষিণ রেলওয়ে শাখা, বারুইপুর জংশন এবং ১৭টি ওয়ার্ডের নিকাশি, পানীয় জল ও নাগরিক সমস্যা কেন্দ্রিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।