বারুইপুরে শুরু হলো ‘চিত্রে চিত্র ২০২৬–২৭’ রাজ্য স্তরের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা: উৎসবের ঐতিহ্যকে লেন্সে বন্দি করার সুবর্ণ সুযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বর্ণময় লোকসংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্যকে ক্যামেরার লেন্সে তুলে ধরতে বারুইপুরে আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘চিত্রে চিত্র ২০২৬–২৭’। নবীন ও অভিজ্ঞ আলোকচিত্রীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও বিশেষ প্রদর্শনীর সুযোগ।

উৎসবের রঙ, মানুষের জীবনের গল্প এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে ক্যামেরার লেন্সে জীবন্ত করে তুলতে বারুইপুরে সূচনা হলো বিশেষ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘চিত্রে চিত্র ২০২৬–২৭’। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা ও অভিজ্ঞ আলোকচিত্রীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সহ সারা রাজ্যের উদীয়মান ও পেশাদার চিত্রগ্রাহকদের অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
বারুইপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমীর কোলাকুলি, আসন্ন দীপাবলি, ঐতিহাসিক রাসমেলা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জীবনযাত্রা—ফটোগ্রাফারদের কাছে এই অঞ্চল সবসময়ই এক অনন্য দৃশ্যপট। এই সমস্ত অমূল্য মুহূর্তকে সংরক্ষিত করতেই এই প্রতিযোগিতার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিভাগ ও আলোকচিত্র প্রেরণের নিয়মাবলী
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় প্রধানত চারটি বিভাগে ছবি জমা নেওয়া হবে:
- 1উৎসব ও আধ্যাত্মিকতা: শারদোৎসব, কালীপূজা, আলোর দীপাবলি ও বারুইপুরের প্রাচীন পুজো-পার্বণের জীবন্ত ফ্রেম।
- 2ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব: বারুইপুরের ঐতিহাসিক জোড়া শিবমন্দির, নীলকুঠি, রাশমাঠ ও প্রাচীন স্থাপত্যের দলিল।
- 3জনজীবন ও মেঠো পথ: সুন্দরবনের প্রান্তসীমা, কৃষিজীবী ও স্থানীয় শিল্পীদের সংগ্রামী ও বর্ণিল জীবনগাথা।
- 4প্রকৃতি ও পাখি: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন সংলগ্ন জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
প্রতিযোগীদের ডিজিটাল ক্যামেরায় কিংবা উচ্চ রেজুলিউশনের মোবাইল ফোনে তোলা মৌলিক (Original) ছবি নির্দিষ্ট ইমেল ও ডিজিটাল লিঙ্কের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। ছবিতে কোনও প্রকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা অতিমাত্রায় ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিচারক প্যানেল ও মেগা প্রদর্শনীর আয়োজন
রাজ্যের বিশিষ্ট ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চমানের জুরি বোর্ড সমস্ত জমা পড়া ছবি বিচার করবেন। সেরা ছবিগুলিকে আগামী শীতকালীন বারুইপুর মিলন মেলার প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষ আর্ট গ্যালারিতে সাধারণ মানুষের সামনে প্রদর্শিত করা হবে।
পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের জন্য থাকছে ট্রফি, মানপত্র এবং বিশেষ আর্থিক সম্মাননা। আয়োজকদের বক্তব্য, "এই প্রতিযোগিতা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের বারুইপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল দলিলের আকারে তুলে ধরার এক সম্মিলিত সামাজিক প্রয়াস।"
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।