বারুইপুর রামনগরে এবার শ্যামাপূজায় অভিনব "কিউট কালী" ও কলকাতার রাজরানী ফাটাকেষ্ট আদলে দেবী প্রতিমা: ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় | Ramnagar Baruipur Kali Puja 2026
আসন্ন কালীপূজায় বারুইপুরের রামনগরে রচিত হয়েছে এক অভিনব ধর্মীয় ও শৈল্পিক আবহ। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রাজরানী ফাটাকেষ্ট কালীপুজোর আদলে দেবীমূর্তি নির্মাণের পাশাপাশি এবার দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ শিশুদের মনোগ্রাহী শান্ত স্নিগ্ধ "কিউট কালী মা" প্রতিমা। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে এখনই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটছে।
কালীপূজা উপলক্ষে প্রতি বছরই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ক্লাবে নজরকাড়া মণ্ডপ ও ব্যতিক্রমী দেবীমূর্তি তৈরি করা হয়। তবে ২০২৬ সালের দীপান্বিতা অমাবস্যায় বারুইপুরের রামনগর এলাকার কালীপূজা সমগ্র মহকুমায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মধ্য কলকাতার সুবিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী 'রাজরানী ফাটাকেষ্ট' কালী প্রতিমার রাজকীয় আঙ্গিকের পাশাপাশি মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত বিরল ও স্নিগ্ধ এক রূপ—যাকে স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন "কিউট কালী মা"।
সাধারণত কালীর রুদ্র, ভয়াল ও রণচণ্ডী রূপ দেখে অভ্যস্ত দর্শনার্থীরা রামনগরের এই মণ্ডপে এসে এক অপার্থিব শান্তভাব অনুভব করছেন। সনাতন শাস্ত্রে মায়ের কন্যা রূপ বা বালিকা রূপের যে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা রয়েছে, সেই ভাবকে ভিত্তি করেই এই প্রতিমার রূপদান করা হয়েছে। রক্তবর্ণ জিভ ও মুণ্ডমালার বদলে মায়ের মুখে রয়েছে মমতাময়ী এক নির্মল হাসি, যা ছোট শিশু থেকে প্রবীণ সকল ভক্তকেই গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।
মৃৎশিল্পীদের কারুকাজ ও আলোকসজ্জা
প্রতিমাটি তৈরিতে নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও স্থানীয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষ মৃৎশিল্পীরা একটানা দেড় মাস ধরে কাজ করেছেন। মা কালীর পরণে রয়েছে কাঞ্চিপুরম বেনারসি শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালঙ্কারের সাবেকি ডাকের সাজ এবং সুদৃশ্য মুকুট। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে পরিবেশবান্ধব বাঁশ, কাঠের ফ্রেম ও কাপড়ের সাহায্যে কলকাতার প্রাচীন রাজবাড়ির স্থাপত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চন্দননগরের আলোয় আলোকিত পুরো রামনগর রাস্তা যেন এক টুকরো উৎসবের আলোয় পরিণত হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ও সামাজিক অঙ্গীকার
পুজো কমিটির সম্পাদক জানান, "আজকের অস্থির সমাজে মানুষ শান্তি ও বাৎসল্য রসের সন্ধান চায়। মা কালী কেবল সংহারকর্ত্রী নন, তিনি বিশ্বজননী এবং স্নেহময়ী মা। সেই চিরন্তন সত্যটি সমাজের সামনে তুলে ধরতেই আমরা এই মমতাময়ী বালিকা রূপের আরাধনার উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি কলকাতার কিংবদন্তি ফাটাকেষ্ট কালীর ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।" পূজার ক'দিন রক্তদান শিবির, দুঃস্থ শিশুদের নতুন বস্ত্র বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষদের জন্য অন্নকূট মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
কীভাবে যাবেন ও দর্শনার্থীদের সুবিধা
বারুইপুর জংশন স্টেশন থেকে অটো বা টোটোয় চেপে রামনগর কালীতলা মোড়ে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় (সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট)। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক এবং পৃথক লাইন ও পানীয় জলের বুথ তৈরি করা হয়েছে।
জরুরি উৎসব হেল্পলাইন
- স্থানীয় পুজো সমন্বয় সেল: ৯৮৩১৮৯৫১৬০
- বারুইপুর থানা কন্ট্রোল: ০৩৩-২৪৩৩-৮২২২
- জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা: ১০২
সংস্কৃতি পরিক্রমা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারুইপুরের অনন্য পুজো সংস্কৃতি ও লোকউৎসবের খাঁটি খবর পৌঁছে দিতে বারুইপুর অনলাইন সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রিয়ব্রত মণ্ডল(Priyabrata Mondal)
নাগরিক পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামো সংবাদদাতা • রেলপথ, পৌর পরিষেবা ও গণপরিবহন
শিয়ালদহ দক্ষিণ রেলওয়ে শাখা, বারুইপুর জংশন এবং ১৭টি ওয়ার্ডের নিকাশি, পানীয় জল ও নাগরিক সমস্যা কেন্দ্রিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।