সিয়াচেন লাদাখে কর্মরত ভারতীয় সেনার জন্য সোনম স্যারের কাজ
সিয়াচেন লাদাখে কর্মরত ভারতীয় সেনার জন্য সোনম স্যারের কাজ : ভারতীয় সেনাদের জন্য সোনম ওয়াংচুকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হল উচ্চ হিমালয়ে মোতায়েন সেনাদের জন্য সৌরশক্তিচালিত...

খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
সিয়াচেন লাদাখে কর্মরত ভারতীয় সেনার জন্য সোনম স্যারের কাজ :
ভারতীয় সেনাদের জন্য সোনম ওয়াংচুকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হল উচ্চ হিমালয়ে মোতায়েন সেনাদের জন্য সৌরশক্তিচালিত (solar-heated) বহনযোগ্য তাঁবু তৈরি করা।এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো লাদাখ ও সিয়াচেনের মতো অত্যন্ত শীতল অঞ্চলে ভারতীয় সেনাদের জন্য এমন আবাসন তৈরি করা, যেখানে বিদ্যুৎ বা ডিজেলের উপর কম নির্ভর করে কেবল সূর্যের তাপ ব্যবহার করে ঘরের ভেতর আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখা যায়।২০২১ সালে লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন হওয়ার পর তিনি ও তাঁর দল এই প্রযুক্তি তৈরি করেন।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
সোলার-হিটেড মোবাইল টেন্ট: দিনের বেলা সূর্যের তাপ সংগ্রহ করে রাতে তাঁবুর ভেতর উষ্ণ রাখে। ফলে কেরোসিন বা জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজন অনেক কমে যায়।
চরম ঠান্ডায় কার্যকর: বাইরে তাপমাত্রা প্রায় –১৪°C হলেও তাঁবুর ভেতরে প্রায় +১৫°C তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে পরীক্ষায়।
সহজে বহনযোগ্য: একটি তাঁবুতে প্রায় ১০ জন জওয়ান থাকতে পারেন এবং এর প্রতিটি অংশ ৩০ কেজির কম ওজনের হওয়ায় দুর্গম এলাকায় বহন করা সহজ।
পরিবেশবান্ধব: কেরোসিন পোড়ানোর প্রয়োজন কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।
এই প্রযুক্তিটি দেখায় যে পদার্থবিদ্যার মৌলিক নীতি—সৌর বিকিরণ, গ্রিনহাউস প্রভাব, তাপধারণ ক্ষমতা এবং তাপ নিরোধক—ব্যবহার করে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই হিমালয়ের চরম ঠান্ডায় কার্যকর আবাসন তৈরি করা সম্ভব।
সোনম ওয়াংচুকের উদ্ভাবিত Solar Heated Military Tent-এর মূল বিজ্ঞান তিনটি নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—Passive Solar Heating, Thermal Energy Storage এবং High-performance Insulation। এটি কোনো বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে না; সূর্যের তাপকেই সংগ্রহ, সঞ্চয় এবং ধীরে ধীরে ছেড়ে দিয়ে তাঁবুকে উষ্ণ রাখে।
এর বিজ্ঞান
১. Passive Solar Heating (নিষ্ক্রিয় সৌর উষ্ণায়ন)
তাঁবুর দক্ষিণমুখী অংশটি একটি গ্রিনহাউস হিসেবে কাজ করে।
সূর্যের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (short-wave) বিকিরণ স্বচ্ছ আবরণ ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের গাঢ় রঙের পৃষ্ঠে শোষিত হয়ে তাপে রূপান্তরিত হয়।
এই তাপ দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (infrared) বিকিরণে রূপান্তরিত হলেও সহজে বাইরে বেরোতে পারে না—এটাই গ্রিনহাউস এফেক্ট।
২. Thermal Energy Storage (তাপ সঞ্চয়)
দিনের বেলায় সংগৃহীত তাপ একটি Heat Storage Bank-এ জমা থাকে। ওয়াংচুকের প্রদর্শনীতে জলকে তাপ সঞ্চয়ের মাধ্যম (thermal mass) হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জলের উচ্চ সুনির্দিষ্ট তাপধারণ ক্ষমতা থাকায় এটি প্রচুর তাপ সঞ্চয় করতে পারে এবং রাতে ধীরে ধীরে সেই তাপ ছেড়ে দেয়। ফলে রাতভর তাঁবুর ভেতর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল তাপমাত্রা বজায় থাকে।
৩. High-performance Insulation (উচ্চমানের তাপ নিরোধক)
তাঁবুর উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক অত্যন্ত ভালোভাবে ইনসুলেটেড।
বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে পারে না এবং ভেতরের তাপও দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে না।
উপরিভাগে বায়ুরোধী (windproof) আবরণ থাকায় conduction, convection এবং radiation—এই তিন ধরনের তাপক্ষয়ই অনেকাংশে কমে যায়।
ভারতীয় সেনাদের জন্য এর গুরুত্ব
–১৪°C বাইরের তাপমাত্রায়ও তাঁবুর ভেতরে প্রায় +১৫°C তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে পরীক্ষায়।
একটি তাঁবুতে ১০ জন জওয়ান থাকতে পারেন এবং পুরো কাঠামো বহনযোগ্য; প্রতিটি অংশের ওজন ৩০ কেজির কম।
কেরোসিন-চালিত হিটারের প্রয়োজন কমে যায়, ফলে:
জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি ও খরচ কমে,
কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পায়,
আগুন লাগার ঝুঁকিও কমে যায়।
১. প্রথম ছবি (উপরে): বাহ্যিক দৃশ্য (Exterior View)
এটি পুরো সৌর-উত্তপ্ত শেল্টারের বাইরের চেহারা।
স্বচ্ছ পলিকার্বনেট/পলিথিন আবরণ সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে দেয়।
অর্ধবৃত্তাকার (Quonset Hut) নকশা প্রবল তুষারপাত ও ঝড় সহ্য করতে সাহায্য করে।
২. দ্বিতীয় ছবি: অভ্যন্তরীণ তাপ-নিরোধক (Insulated Interior)
এটি শেল্টারের ভেতরের অংশ।
দেয়াল ও ছাদে মোটা থার্মাল ইনসুলেশন লাগানো আছে, যাতে দিনের সঞ্চিত তাপ রাতে বেরিয়ে না যায়।
মেঝেতেও তাপ-নিরোধক স্তর রয়েছে।
৩. তৃতীয় ছবি: তাপমাত্রা পরীক্ষার প্রদর্শন (Temperature Monitoring)
এখানে সোনম ওয়াংচুক শেল্টারের ভেতরের তাপমাত্রার তথ্য দেখাচ্ছেন।
পাশে থাকা ডিজিটাল মিটারে ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ১৫.৪°C দেখাচ্ছে, যখন বাইরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকতে পারে।
মোবাইলে তাপমাত্রার পরিবর্তনের গ্রাফও দেখা যাচ্ছে।
(সংগৃহীত : গুগল, ইউটিউব, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া)
ঘটনার প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় বিবরণ
ঐতিহাসিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে বারুইপুরের সুখ্যাতি দীর্ঘদিনের। বারুইপুর হাই স্কুল, রাসবাগান হাই স্কুল ও গার্লস স্কুল সহ এলাকার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বারুইপুর কলেজ ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা অধ্যয়ন করেন। বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিল, স্কলারশিপ ও ডিজিটাল ক্লাসরুম সম্প্রসারণে প্রশাসন নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দিয়ে থাকে।
নাগরিক সচেতনতা ও সাধারণ জনজীবনের প্রভাব
এই ধরনের স্থানীয় খবরাখবর ও ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের সতর্কতা এবং প্রশাসনের সাথে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করাই কাম্য। বারুইপুর অনলাইন স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার জন্য সরাসরি গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সরকারি নির্দেশিকা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।
জরুরি প্রশাসনিক হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
- জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI of Schools) সাউথ ২৪ পরগনা: ০৩৩-২৪৭৯-১০০৫ | বারুইপুর মহকুমা শিক্ষা দপ্তর যোগাযোগ: ০৩৩-২৪৩৩-৮২৫০
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা ও ফ্যাক্ট-চেক নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব অনুসন্ধানী ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সংবাদ সূত্রের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি সংকলিত ও পরিমার্জিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রচারিত এই তথ্যে কোনো সংশোধন থাকলে আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (3টি ছবি)


