উমার বিদায়ের পরই শ্যামাপুজোর প্রস্তুতিতে মুখরিত বারুইপুর: পদ্মপুকুর থেকে রাসমাঠে বিগ বাজেটের থিম ও আলোকসজ্জার জোর প্রস্তুতি
বিজয়াদশমী ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার রেশ কাটতে না কাটতেই দীপাবলি ও শ্যামাপূজার আনন্দে মেতে উঠেছে ঐতিহ্যের বারুইপুর শহর। পদ্মপুকুর, কুলপী রোড এবং রেল ময়দান জুড়ে শুরু হয়েছে বিশাল মণ্ডপ তৈরির কাজ এবং চন্দননগরের নজরকাড়া আলোকসজ্জার মহড়া।

শারদোৎসবের সমাপ্তি এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার আলো নিভতে না চলতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বারুইপুরে শুরু হয়ে গেছে দীপাবলি ও শ্যামাপূজার প্রস্তুতি। "যে পথে গিয়েছে উমা, সেই পথেই ফিরছে শ্যামা"—বাঙালির এই চিরায়ত আবেগে ভর করে বারুইপুরের অলিগলি এখন সেজে উঠছে মা কালীর আরাধনার বর্ণাঢ্য আয়োজনে। পদ্মপুকুর, রাসমাঠ, ফুলতলা, চম্পাহাটি সংলগ্ন এলাকা জুড়ে ক্লাব ও পূজা উদ্যোক্তারা শুরু করেছেন বিশালাকার মণ্ডপ নির্মাণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বারুইপুরের কালীপূজার খ্যাতি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল স্টার ক্লাব, সামারসেট ক্লাব, বিধান স্মৃতি সংঘ, ইয়ং স্টার সহ একাধিক বিগ বাজেটের পূজায় প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এবছরও একাধিক মণ্ডপে পরিবেশবান্ধব শিল্পকর্ম, পৌরাণিক মন্দির ও সামাজিক বার্তাভিত্তিক থিমের লড়াই শুরু হয়েছে।
খোদার বাজারে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা
বারুইপুরের খোদার বাজার, মাস্টারপাড়া এবং শ্মশান রোড সংলগ্ন মৃৎশিল্পীদের কর্মশালায় এখন চরম ব্যস্ততা। শিল্পীরা দিনরাত এক করে মা শ্যামার রুদ্র ও কল্যাণময়ী রূপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। খড় ও মাটির কাঠামোর ওপর প্রলেপ দেওয়ার পর শুরু হয়েছে রঙের কারুকাজ এবং ডাকের সাজ ও অলঙ্কার পরানোর সূক্ষ্ম কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা জানাচ্ছেন, এবার ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক প্রতিমার বায়না এসেছে, যার বেশিরভাগই স্থানীয় ক্লাব ও গৃহস্থবাড়ির।
এক মৃৎশিল্পী স্বপন পাল বলেন, "দুর্গাপূজার তুলনায় কালীপূজায় সময়ের ব্যবধান খুব কম থাকে। তাই রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। এবছর সনাতনী ডাকের সাজের পাশাপাশি মাটি ও ফাইবারের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি প্রতিমার চাহিদা বেশি।"
নিরাপত্তা ও সবুজ বাজি নিয়ে প্রশাসনের নির্দেশিকা
কালীপূজা ও দীপাবলিতে শব্দদূষণ রোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বারুইপুর পুলিশ জেলা ও পুরসভার তরফে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। চম্পাহাটি ও হারাল বাজি বাজার সংলগ্ন অঞ্চলে শুধুমাত্র কিউআর কোড যুক্ত অনুমোদিত সবুজ বাজি (Green Crackers) বিক্রির কড়া নজরদারি চলছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য বারুইপুর রেল স্টেশন চত্বর ও কুলপী রোডে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও মহিলা পুলিশ উইনার্স টিম মোতায়েন করা হবে যাতে পুজো পরিক্রমা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর থাকে।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।