বারুইপুরে ফের পুলিশের জালে ভুয়ো চিকিৎসক: ক্লিনিক খুলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার নামে প্রতারণা, বাজেয়াপ্ত জাল ডিগ্রি ও সিলমোহর
বারুইপুর থানা এলাকার একটি ভাড়া করা চেম্বারে এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে বছরের পর বছর অপচিকিৎসা চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে জাল প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিভিন্ন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমায় ফের সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসকদের চক্র। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট শাখার বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এক জাল চিকিৎসককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ব্যক্তি নিজের চেম্বারের সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি এবং পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে সাধারণ দরিদ্র মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট চেম্বারটিতে ভুল চিকিৎসা এবং অ্যান্টিবায়োটিক সহ কড়া ডোজের অ্যালোপ্যাথিক প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। স্বাস্থ্য দফতরের সতর্কবার্তার পর পুলিশ ছদ্মবেশে গ্রাহক সাজিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এরপর চেম্বারে আচমকা হানা দিয়ে তাঁর ডিগ্রি ও ডাক্তারি নিবন্ধনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্ত কোনও নথি দেখাতে পারেনি।
চেম্বার থেকে বাজেয়াপ্ত জাল কাগজপত্র ও ওষুধ
তল্লাশি চালিয়ে চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ জাল প্রেসক্রিপশন প্যাড, তৈরি করা ভুয়ো চিকিৎসকের রবার স্ট্যাম্প, রক্তচাপ ও গ্লুকোজ মাপক যন্ত্র এবং মজুত রাখা প্রচুর শিডিউল-এইচ ওষুধপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাক্টের একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বারুইপুর জেলা পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, "ধৃত ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ না নিয়েই নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে আগে একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে সহকারী হিসেবে কাজ করত এবং সেই অভিজ্ঞতার অপব্যবহার করে নিজের ক্লিনিক খুলে বসেছিল।"
রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য দফতরের সতর্কতা ও সচেতনতা
বারুইপুর মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক (ACMOH) সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, কোনও ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর আগে চিকিৎসকের পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল (WBMC) বা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)-এর বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনও চেম্বারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মেলে, তবে সরাসরি স্বাস্থ্য দফতর বা নিকটবর্তী বারুইপুর থানায় অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।
অনিমেষ মুখার্জী(Animesh Mukherjee)
সিনিয়র ক্রাইম ও জেলা প্রশাসন প্রতিনিধি • আইনশৃঙ্খলা, আদালত ও পুলিশ প্রশাসন
বারুইপুর পুলিশ জেলা, মহকুমা আদালত ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়মিত গ্রাউন্ড রিপোর্টার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (3টি ছবি)


