বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে বিচারাধীন বন্দির রহস্যজনক মৃত্যু: চিকিৎসায় গাফিলতি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সরব পরিবার
বারুইপুর মহকুমা সংশোধনাগার থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হেফাজতে নির্যাতন ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার।
বারুইপুর মহকুমা সংশোধনাগারে বন্দি থাকা এক বিচারাধীন ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দিল বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। সংশোধনাগারের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বন্দিকে তড়িঘড়ি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পুলিশ ও জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।
মৃতের স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, সংশোধনাগারের অভ্যন্তরে তাঁর স্বামীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরিবারের দাবি, দিন কয়েক আগে যখন সংশোধনাগারে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়, তখন তিনি সুস্থ ছিলেন। আচমকা এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে হেফাজতে শারীরিক নিগ্রহকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।
পরিবারের অভিযোগ ও বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি
মৃত বন্দির স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমার স্বামীকে সম্পূর্ণ বিনা কারণে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। জেলে থাকাকালীন তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতালে পাঠাতে দেরি করা হয়েছে। আমরা এই রহস্যজনক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ বিচারবিভাগীয় ও ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত চাই।"
পরিবারের তরফ থেকে বারুইপুর মহকুমা শাসক এবং জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।
জেল ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
অন্যদিকে সংশোধনাগার ও জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক পরিবারের অভিযোগ খণ্ডন করে জানিয়েছেন, কোনও প্রকার শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বন্দি দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কালবিলম্ব না করে জেল অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-এর নির্দেশিকা ও বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী মেনেই এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। একজন বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইনকোয়েস্ট বা সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হবে এবং তিন সদস্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অনিমেষ মুখার্জী(Animesh Mukherjee)
সিনিয়র ক্রাইম ও জেলা প্রশাসন প্রতিনিধি • আইনশৃঙ্খলা, আদালত ও পুলিশ প্রশাসন
বারুইপুর পুলিশ জেলা, মহকুমা আদালত ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়মিত গ্রাউন্ড রিপোর্টার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)

