২১ ফুটের বিশালাকার "সাদা মা" ও অমরনাথ মন্দিরের আদলে ৫০ ফুটের মণ্ডপ: বারুইপুর অঙ্কুর ক্লাবের শ্যামাপূজায় ভক্তদের ঢল
বারুইপুর অঙ্কুর ক্লাবের শ্যামাপূজা এবার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। ২১ ফুটের শ্বেতশুভ্র "সাদা মা" প্রতিমা এবং ৫০ ফুট উচ্চতার অমরনাথ গুহা মন্দিরের আদলে মণ্ডপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন বারুইপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দর্শনার্থীরা।
বারুইপুরের শতাব্দীপ্রাচীন উৎসব ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অঙ্কুর ক্লাবের শ্যামাপূজা। এবছর ক্লাবের পূজা মণ্ডপে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ছে হিমালয়ের পবিত্র অমরনাথ গুহা মন্দিরের অনবদ্য দৃশ্যরূপ। প্রায় ৫০ ফুট উঁচু বরফাবৃত গুহার আদলে নির্মিত হয়েছে সুবিশাল এই মণ্ডপ। আর তার অভ্যন্তরে অধিষ্ঠিত রয়েছেন ২১ ফুট উচ্চতার শ্বেতশুভ্র অনন্য 'সাদা মা' শ্যামাকালী প্রতিমা।
অমরনাথ গুহা মন্দিরের রূপায়ণ ও শৈল্পিক কারুকাজ
অঙ্কুর ক্লাবের পূজা উদ্যোক্তারা জানান, দর্শনার্থীদের কাছে তীর্থভ্রমণের এক জীবন্ত অনুভূতি পৌঁছে দিতে মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী ও মণ্ডপশিল্পীদের সম্মিলিত পরিশ্রমে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের কৃত্রিম বরফশৃঙ্গ, তুষারঝরা গুহামুখ এবং আলো-আঁধারির আবহ এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ৫০ ফুটের এই গুহা মণ্ডপটি দূর থেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
২১ ফুটের শ্বেতশুভ্র 'সাদা মা' প্রতিমার বিশিষ্টতা
সনাতনী শ্যামারূপে কৃষ্ণবর্ণের দেবীমূর্তির পাশাপাশি শান্ত শ্বেতবর্ণের মহাকালী রূপ আবহমানকাল ধরে ভক্তদের অন্তরে শ্রদ্ধার স্থান দখল করে আছে। অঙ্কুর ক্লাবের ২১ ফুট উচ্চতার এই প্রতিমায় মায়ের চোখ ও মুখের সৌম্যভাব বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সকল অমঙ্গল দূরীকরণের বার্তা দিতেই মায়ের এই শ্বেতরূপের আরাধনা।
আলোকসজ্জা ও ভক্তদের ভিড় ব্যবস্থাপনা
চন্দননগরের আধুনিক এলইডি ও ডায়নামিক লাইটিংয়ের মাধ্যমে পুরো মণ্ডপ চত্বর আলোকিত করা হয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই বারুইপুর বাইপাস, স্টেশন রোড, কাছারি বাজার এবং পদ্মপুকুর এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। ভক্তদের শৃঙ্খলার সাথে প্রতিমা দর্শনের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশ কর্মী ও ক্লাবের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন রয়েছেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি
পূজা উপলক্ষে অঙ্কুর ক্লাবের পক্ষ থেকে স্থানীয় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, ধর্মীয় আরাধনার পাশাপাশি নাগরিক কল্যাণ ও আঞ্চলিক ঐক্যের মেলবন্ধন গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
