কালীপূজা ও দীপাবলিতে জমে উঠেছে বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী হাড়াল বাজি বাজার: ২০ হাজার পরিবারের রুটি-রুজি, সরকারি ছাড়পত্র ও সবুজ বাজির বিপুল চাহিদা | Baruipur Haral Firecracker Market 2026
আসন্ন শ্যামাপূজা ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে বারুইপুর থানার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী হাড়াল বাজি বাজারে উপচে পড়া ভিড়। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি (Green Crackers) বিক্রি এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
আসন্ন শ্যামাপূজা, দীপাবলি ও ছটপূজাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী হাড়াল গ্রামে এখন সাজো সাজো রব। চম্পাহাটির সংলগ্ন এই হাড়াল অঞ্চলটি বহু দশক ধরে ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি ও আলো প্রস্তুতকারক কেন্দ্র হিসেবে গোটা বাংলায় পরিচিত। সারা বছর অপেক্ষার পর দীপাবলির মুখে পাইকারি ও খুচরো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে বাজি ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটেছে চওড়া হাসি।
প্রায় ২০ হাজার কারিগর ও পরিবারের রুটি-রুজির প্রধান উৎস
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুযায়ী, হাড়াল ও সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই বাজি কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তুবড়ি, রংমশাল, চরকি, তারা ও বিভিন্ন আলোর বাজি তৈরিতে স্থানীয় মহিলাদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। এক বাজি ব্যবসায়ী জানান, "সারা বছর বিনিয়োগ করার পর কালীপূজার এই কয়েকটা দিনই আমাদের প্রধান আয়ের সুযোগ। এ বছর ক্রেতাদের সাড়াও বেশ ইতিবাচক।"
পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি (Green Crackers) ও সরকারি ছাড়পত্র
শব্দদূষণ রোধে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা বাস্তবায়নে এ বছর হাড়ালের বাজারে শুধুমাত্র সিএসআইআর-নিরি (CSIR-NEERI) অনুমোদিত কিউআর কোডযুক্ত সবুজ বাজি বিক্রির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এবং রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনে তারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কলকাতা, যাদবপুর, সোনারপুর, ক্যানিং ও দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে আসল ও নিরাপদ বাজি সংগ্রহ করছেন।
অগ্নি-নির্বাপক প্রস্তুতি ও বারুইপুর পুলিশ জেলার নজরদারি
বিপুল পরিমাণ আতশবাজির মজুত থাকায় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনা রোধে বাজার প্রাঙ্গণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রতিটি দোকানের সামনে বালির বালতি, জল ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলা ও স্থানীয় ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে এলাকায় প্রতিনিয়ত টহল চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি না হয়।
যাতায়াত ও পৌঁছানোর নির্দেশিকা
- ট্রেন পথে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার চম্পাহাটি অথবা বারুইপুর জংশন স্টেশনে নেমে সহজেই টোটো বা অটোযোগে হাড়াল বাজি বাজারে পৌঁছানো যায়।
- সড়ক পথে: বারুইপুর বাইপাস বা সোনারপুর হয়ে সরাসরি হাড়াল মোড়ে পৌঁছানো সুবিধাজনক।
জরুরি প্রশাসনিক হেল্পলাইন
- বারুইপুর দমকল কেন্দ্র: ০৩৩-২৪৩৩-০২২২
- বারুইপুর থানা কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-৮২১১ / ১০০
- মহকুমা শাসক কার্যালয়: ০৩৩-২৪৩৩-৮২০০
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা ও ফ্যাক্ট-চেক নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ক্রেতাদের সবসময় কিউআর কোড স্ক্যান করে পরিবেশবান্ধব বাজি কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শুভ্রনীল নস্কর(Subhranil Naskar)
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক • মহকুমা প্রশাসন, নগরোন্নয়ন ও রাজনীতি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারুইপুর মহকুমার সমাজ, পৌর রাজনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহকুমার জনস্বার্থ ও অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতায় যুক্ত।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)

