বারুইপুর কাছারি বাজারের শতাব্দীপ্রাচীন মা বিশালাক্ষী দেবীর ঐতিহ্যবাহী নিত্যসেবা ও ইতিহাস: ভক্তদের অটুট বিশ্বাস ও বাণিজ্য কেন্দ্রের সুরক্ষা | Baruipur Kacharibazar Bishalakshi Temple
বারুইপুরের ব্যস্ততম বাণিজ্য কেন্দ্র কাছারি বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন মা বিশালাক্ষী দেবীর মন্দির। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অটুট বিশ্বাস, প্রাচীন দেবীর প্রতিষ্ঠা ইতিহাস ও নিত্য আরাধনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হলো বারুইপুর কাছারি বাজার (Kachari Bazar Baruipur)। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদের পদচারণায় মুখরিত এই বাজারের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন 'মা বিশালাক্ষী দেবীর মন্দির'। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের কাছে মা বিশালাক্ষী হলেন এই বাজারের পরম অভিভাবক ও রক্ষাকর্ত্রী।
মা বিশালাক্ষী দেবীর ঐতিহাসিক পটভূমি
বারুইপুরের জমিদারী আমল ও আদি গঙ্গার তীরবর্তী বাণিজ্যের প্রসারের সময় থেকেই এই মন্দিরের উৎপত্তি বলে স্থানীয় প্রবীণদের বিশ্বাস। কথিত আছে, শতাব্দী পূর্বে যখন কাছারি বাজার একটি ছোট হাট ও মহকুমা আদালত চত্বরের সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে উঠছিল, তখনই ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের উদ্দেশ্যে এখানে মা বিশালাক্ষীর পবিত্র মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও ভক্তদের সহযোগিতায় একটি পাকা মন্দির ভবন গড়ে তোলা হয়।
দেবী এখানে চতুর্ভুজা রূপের শান্ত অথচ তেজোময়ী মাতৃমূর্তিতে পূজিতা হন। দেবীর মুখমণ্ডলের সৌম্য রূপ ভক্তদের মনে গভীর শান্তির সঞ্চার করে।
নিত্যসেবা, ভোগ আরতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস
কাছারি বাজারের শত শত দোকানদার প্রতিদিন সকালে দোকান খোলার পূর্বে মা বিশালাক্ষী মন্দিরে এসে প্রণাম জানান এবং ধূপ-ধুনো দিয়ে ব্যবসার শুভ সূচনা করেন। ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস, মায়ের কৃপাতেই এই বাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আসছে।
- নিত্য পূজা ও আরতি: প্রতিদিন সকালে মায়ের মঙ্গলারতি ও বৈদিক মন্ত্রে নিত্যপূজা সম্পন্ন হয়। দুপুরে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোরম সন্ধ্যারতি।
- বার্ষিক উৎসব: প্রতি বছর বিশেষ তিথিতে মন্দিরে বাৎসরিক মহোৎসব, হোম-যজ্ঞ ও হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে নরনারায়ণ সেবা আয়োজিত হয়।
অবস্থান ও কীভাবে দর্শন করবেন
মন্দিরটি বারুইপুর জংশন স্টেশন থেকে কুলপী রোড ধরে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে কাছারি বাজারের প্রধান সংযোগস্থলে অবস্থিত। সকাল ৬:০০ টা থেকে দুপুর ১:০০ টা এবং বিকাল ৪:৩০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তদের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি: আধুনিক নগরায়নের মধ্যেও বারুইপুরের ঐতিহ্য, বাণিজ্য ও ভক্তিভাবের এক অনন্য মিলনস্থল কাছারি বাজারের এই প্রাচীন বিশালাক্ষী মন্দির। আমাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই বারুইপুর অনলাইনের লক্ষ্য।

শুভ্রনীল নস্কর(Subhranil Naskar)
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক • মহকুমা প্রশাসন, নগরোন্নয়ন ও রাজনীতি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারুইপুর মহকুমার সমাজ, পৌর রাজনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহকুমার জনস্বার্থ ও অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতায় যুক্ত।