বারুইপুর জুড়ে ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার সাড়ম্বর আরাধনা: শঙ্খধ্বনি, আলপনা ও নিশিজাগরণের আলোকচ্ছটায় মুখরিত জনপদ
শারদ পূর্ণিমার আলোয় বারুইপুর মহকুমা জুড়ে ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। কাছারি বাজার ও পদ্মপুকুরে উপচে পড়া কেনাকাটা শেষে শঙ্খধ্বনি, অপরূপ আলপনা ও নিশিজাগরণের মাধ্যমে ধনধান্যের দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন পুর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ।
খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়ার বিষাদ কাটিয়ে আশ্বিন পূর্ণিমার স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায় বারুইপুর মহকুমা জুড়ে ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে ধনধান্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা। রবিবার সকাল থেকেই বারুইপুর পৌরসভা এলাকা সহ কল্যাণপুর, ধপধপি, মল্লিকপুর, পদ্মপুকুর, মদনপুর এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আবহ। বাড়ি বাড়ি শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ধূপ-ধুনোর সুগন্ধে এক স্বর্গীয় পরিবেশ রচিত হয়েছে।
আলপনা ও গৃহসজ্জায় সাবেকি ঐতিহ্য
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রধানতম আকর্ষণ হলো ঘরের চৌকাঠ থেকে ঠাকুরঘর পর্যন্ত ধানের শিষ ও লক্ষ্মীর পদচিহ্ন আঁকা অপরূপ চালের গুঁড়োর আলপনা। বারুইপুরের গৃহিণীরা ভোর থেকেই নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলেছেন দেবীর আগমনী পদরেখা। ঘরের প্রধান দরজায় আম্রপল্লবযুক্ত মঙ্গলঘট, নতুন ধানের শিষ, কলাগাছের খোল এবং পদ্মফুলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পূজার স্থান।
ভোগ ও নৈবেদ্যের সম্ভার
বারুইপুরের সনাতনী পরিবারগুলিতে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের থালিতে স্থান পেয়েছে খিচুড়ি, লাবড়া, বিভিন্ন ধরনের ভাজা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, মুড়ির মোয়া এবং বিখ্যাত জয়নগরের খাঁটি নলেন গুড়ের ক্ষীর ও পায়েস। এর সাথে কাছারি বাজার থেকে সংগৃহীত মরসুমি ফল—পানিফল, বাতাবি লেবু, আপেল, শসা ও আঁখের নৈবেদ্য দেবীর চরণে অর্পণ করা হয়েছে।
'কে জাগে রে': নিশিজাগরণের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিনের এই পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে নেমে এসে ঘুরে দেখেন কারা জেগে আছেন আর কারা নিদ্রিত। সংস্কৃতে 'কো জাগর্তি' অর্থাৎ 'কে জাগে' থেকেই এই পূজার নাম কোজাগরী। যারা রাতে জেগে ভক্তিভরে দেবীর স্তব করেন, তাঁদের ঘরেই দেবী স্থায়ী আসন পাতেন বলে বিশ্বাস। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে বারুইপুরের বহু পরিবারেই সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে নিশিজাগরণ ও পাঁচালী পাঠের আয়োজন চলছে।
পুলিশি নজরদারি ও অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা
উৎসব উপলক্ষে বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা ও বাজার সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। পূজায় প্রচুর প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালানো হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল বিভাগের তরফ থেকে গৃহস্থদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রাতে ঘুমানোর আগে খোলা অগ্নিশিখা নিভিয়ে দেওয়ার জন্য সচেতনতামূলক বার্তা জারি করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক হেল্পলাইন নম্বর
- বারুইপুর থানা ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-২৫৩৩ / ১০০ / ১১২
- বারুইপুর দমকল কেন্দ্র (Fire Station): ০৩৩-২৪৩৩-২২২২ / ১০১
- বারুইপুর পৌরসভা হেল্পডেস্ক: ০৩৩-২৪৩৩-২১১৯
- মহকুমা হাসপাতাল জরুরি বিভাগ: ০৩৩-২৪৩৩-২৪৩০
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা ও ফ্যাক্ট-চেক নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ উৎসব প্রতিবেদনটি সংকলিত হয়েছে। আমরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (3টি ছবি)


