১৮ নভেম্বর থেকে শুরু ঐতিহ্যবাহী বারুইপুর মিলন মেলা ২০২৬: সময়সূচি, টিকিট, জয়রাইডস, শপিং ও সম্পূর্ণ নির্দেশিকা
আগামী ১৮ই নভেম্বর থেকে বারুইপুর রবীন্দ্র ভবনের বিপরীতে নিউ ইন্ডিয়ান গ্রাউন্ডে শুরু হতে চলেছে বহুপ্রতীক্ষিত বারুইপুর মিলন মেলা ২০২৬। একমাসব্যাপী এই শীতকালীন বাণিজ্য উৎসবে শপিং স্টল, নাগরদোলা, লাইভ শো ও খাবার সম্ভারের পূর্ণাঙ্গ গাইড।

খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
শীতের শুরুতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ শহরতলির মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শুরু হতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনোদন উৎসব—বারুইপুর মিলন মেলা ২০২৬। আগামী ১৮ই নভেম্বর ২০২৬ (বুধবার) থেকে বারুইপুর স্টেশন সংলগ্ন কুলপী রোডে অবস্থিত ঐতিহাসিক নিউ ইন্ডিয়ান ক্লাব গ্রাউন্ডে (রবীন্দ্র ভবনের ঠিক বিপরীতে) এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটির শুভ উদ্বোধন হতে চলেছে। প্রায় এক মাসব্যাপী চলা এই মহা কার্নিভালে সমগ্র জেলা ও কলকাতা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে মেলা কমিটি।
এক নজরে বারুইপুর মিলন মেলা ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মেলার নাম: বারুইপুর মিলন মেলা ২০২৬ (Baruipur Milan Mela 2026)
- উদ্বোধনের দিন ও তারিখ: ১৮ই নভেম্বর ২০২৬ (18 November 2026)
- সমাপ্তি: ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত (প্রায় এক মাসব্যাপী)
- স্থান ও ভেন্যু: নিউ ইন্ডিয়ান ক্লাব মাঠ (New Indian Ground), রবীন্দ্র ভবনের বিপরীতে, কুলপী রোড, বারুইপুর
- প্রতিদিনের সময়সূচি: প্রতিদিন বিকেল ৩:৩০টা থেকে রাত ৯:৩০টা পর্যন্ত (শনিবার, রবিবার ও ছুটির দিন দুপুর ১২:০০টা থেকে রাত ১০:০০টা পর্যন্ত)
- প্রবেশমূল্য (Entry Fee): মাত্র ₹১০ (দশ টাকা)
- নিকটবর্তী রেলস্টেশন: বারুইপুর জংশন (১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে মাত্র ৩-৫ মিনিটের হাঁটা পথ)
প্রধান আকর্ষণ ও কেনাকাটার মহা সমাহার (Shopping & Craft Stalls)
বারুইপুর মিলন মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো সারা দেশ থেকে আসা কুটির শিল্প, তাঁতবস্ত্র ও কারুশিল্পীদের বিচিত্র পণ্যের সম্ভার। শীতের মরসুমে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ফ্যাশনেবল পোশাক কেনাকাটার জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য:
- শীতের পোশাক ও কাশ্মীরি শাল: সরাসরি কাশ্মীর থেকে আসা পশমিনা শাল, কাশ্মীরি এমব্রয়ডারি করা ফিরান, জ্যাকেট, কার্ডিগান, সোয়েটার ও রকমারি উলের সামগ্রী।
- শাহারানপুরের কাঠের আসবাব: উত্তর প্রদেশের শাহারানপুরের বিখ্যাত কারুকার্যখচিত সেগুন কাঠের সোফা, ডাইনিং টেবিল, দোলনা, কাঠের বুকশেলফ ও অ্যান্টিক শো-পিস।
- বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও হস্তশিল্প: শান্তিপুর ও ফুলিয়ার সুতি ও সিল্কের শাড়ি, নদীয়া ও বাঁকুড়ার টেরাকোটার শো-পিস ও গহনা, শান্তিনিকেতনি চামড়ার পার্স ও হ্যান্ডব্যাগ, এবং সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও ভেষজ সামগ্রী।
- গৃহসজ্জা ও আধুনিক তৈজসপত্র: রাজস্থানি জয়পুরি বেডকভার ও পর্দা, হ্যান্ডমেড কার্পেট, ফুলদানি, ক্রোকারিজ, নন-স্টিক রান্নার সরঞ্জাম এবং বাহারি আধুনিক হোম-ডেকর সামগ্রী।
শিশুদের বিনোদন ও রোমাঞ্চকর জয়রাইডস (Amusement Rides)
মেলা প্রাঙ্গণের একটি সুবিশাল অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রোমাঞ্চকর রাইডসের চত্বর:
- বিশাল নাগরদোলা (Giant Wheel): যেখান থেকে রাতের আলোকিত বারুইপুর শহরের প্যানোরামিক দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়।
- অ্যাডভেঞ্চার রাইডস: রোলার কোস্টার, দ্রুতগতির ব্রেক ডান্স, কলম্বাস বোট, ড্রাগন ট্রেন ও বাম্পার কার।
- ছোটদের বিনোদন জোন: বাউন্সি জাম্পিং ক্যাসল, ওয়াটার বোট ও রিমোট-কন্ট্রোল ব্যাটারি কার।
- আন্তর্জাতিক স্পেশাল শো: ইন্দোনেশিয়ান অ্যাকোয়াটিক শো (জলপরী / Mermaid Show) এবং বিশেষ ম্যাজিক ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী।
ফুড স্ট্রিট: জিভে জল আনা খাবার ও মুখরোচক পদ
মিলন মেলায় ঘোরাঘুরির ফাঁকে রসনাতৃপ্তির জন্য রয়েছে এক বিশাল ফুড কোর্ট:
- কলকাতার সাবেকি স্বাদ: খাঁটি মুঘলাই পরোটা, ডিম-চিকেন কাঠি রোল, ফিশ ফ্রাই এবং গরম গরম ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি।
- শীতের মিষ্টি ও ডেজার্ট: সরাসরি কড়াই থেকে নামানো গরম জিলিপি, মালপোয়া, ক্ষীরের রাবড়ি, কুলফি মালাই ও রাজস্থানি কাচ্চি ঘানির মিষ্টি।
- স্ট্রিট ফুড ও স্ন্যাকস: দিল্লির মুচমুচে চানা ভাটুরা, তিব্বতি স্টিম ও চিলি মোমো, মুম্বাইয়ের পাভ ভাজি, ভেলপুরি এবং ফুচকার বিশেষ স্টল।
- আড্ডার মেজাজ: মেলা মাঠের সান্ধ্য আড্ডায় মাটির ভাঁড়ের স্পেশাল জাফরানি মালাই চা এবং কফির ঠেক।
কীভাবে পৌঁছাবেন মেলা প্রাঙ্গণে? (How to Reach)
বারুইপুর মিলন মেলা প্রাঙ্গণের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক:
- লোকাল ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং, লক্ষ্মীকান্তপুর, কুলপি বা নামখানাগামী যেকোনো ট্রেনে উঠে বারুইপুর জংশন স্টেশনে নামুন। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজ দিয়ে কুলপী রোডে নেমে পায়ে হেঁটে মাত্র ৩ মিনিটেই পৌঁছানো যায় নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে।
- সড়কপথে ও বাসে: গড়িয়া, রুবি, টালিগঞ্জ বা সায়েন্স সিটি থেকে ইএম বাইপাস / বারুইপুর বাইপাস হয়ে সরকারি ও বেসরকারি বাসে বারুইপুর রবীন্দ্র ভবন স্টপেজে নামলেই ঠিক উল্টোদিকে মেলা প্রাঙ্গণ।
- অটো ও টোটো: বারুইপুর রেলগেট, পদ্মপুকুর বা কাছারি বাজার থেকে নিয়মিত টোটো ও অটো সরাসরি মেলা প্রাঙ্গণের গেটে নামিয়ে দেয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি সহায়তা
মেলায় আগত দর্শনার্থী ও নারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বারুইপুর পৌরসভা এবং বারুইপুর পুলিশ জেলার যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে:
- সমগ্র মেলা চত্বরে হাই-রেজোলিউশন সিসিটিভি ক্যামেরা ও একাধিক পুলিশ ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।
- ইভটিজিং ও পকেটমারি রুখতে সাদা পোশাকের মহিলা ও পুরুষ পুলিশ টিম সার্বক্ষণিক টহল দেবে।
- দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি স্টলে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মাঠের পাশে দমকলের বিশেষ ইঞ্জিন মোতায়েন থাকবে।
- দর্শনার্থীদের জন্য মেলা কমিটির নিজস্ব প্রাথমিক চিকিৎসা বুথ ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা মজুত থাকবে।
জরুরি প্রশাসনিক যোগাযোগ নম্বর:
- বারুইপুর থানা ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-২৫৩৩ / ১০০ / ১১২
- বারুইপুর দমকল কেন্দ্র (Fire Station): ০৩৩-২৪৩৩-২২২২ / ১০১
- বারুইপুর পৌরসভা হেল্পলাইন: ০৩৩-২৪৩৩-২১১৯
- বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল জরুরি বিভাগ: ০৩৩-২৪৩৩-২৪৩০
প্রতিবেদন প্রস্তুতি ও সম্পাদকীয় নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিনিধি ও মেলা আয়োজক কমিটির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। শীতকালীন এই মেলায় সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সকল দর্শনার্থীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)

