বারুইপুর প্রগতি সংঘের কালীপূজা মণ্ডপে রাজকীয় চমক: পুরনো ভৌতিক হাভেলির আদলে থিম ও নজরকাড়া আলোকসজ্জা | Baruipur Pragati Sangha Kali Puja 2026
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর প্রগতি সংঘের এবারের শ্যামাপূজার মূল আকর্ষণ পুরনো ভৌতিক হাভেলি। মেদিনীপুরের বিশেষ কারিগরদের নির্মিত শিল্পকর্ম ও চন্দননগরের আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর শহরের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রাচীন পুজো কমিটি বারুইপুর প্রগতি সংঘের এবারের শ্যামাপূজায় বিশেষ চমক। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই পুজোর মণ্ডপ এবার সাজিয়ে তোলা হচ্ছে রাজস্থানের একটি শতাব্দীপ্রাচীন 'ভৌতিক হাভেলি' বা মিস্ট্রিয়াস রাজপ্রাসাদের আদলে। অভিনব থিম, গা ছমছমে আবহ এবং চন্দননগরের মনকাড়া আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো এই মণ্ডপ ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
মণ্ডপসজ্জা ও থিমভাবনা
প্রগতি সংঘের পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দর্শনার্থীদের নতুনত্বের স্বাদ দিতেই এই ভৌতিক হাভেলির পরিকল্পনা:
- কারিগরী শিল্প: পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দক্ষ মৃৎশিল্পীরা কাঠ, প্লাই, পরিবেশবান্ধব ফাইবার এবং প্রাকৃতিক উপাদানে প্রায় দেড় মাস ধরে এই সুবিশাল হাভেলি গড়ে তুলেছেন।
- গা ছমছমে আবহ ও সাউন্ড এফেক্ট: মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করলেই মৃদু ধোঁয়াশা, প্রাচীন রাজপ্রাসাদের খসে পড়া দেওয়াল, ঝুলন্ত প্রাচীন ঝাড়বাতি এবং আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে রহস্যময় রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
- প্রতিমা ও সাবেকি রূপ: ভৌতিক আবহের বিপরীতে দেবী কালীর রূপ সম্পূর্ণ শান্ত ও ভক্তিপূর্ণ সাবেকি ডাকের সাজে সজ্জিত। দেবীমূর্তির স্নিগ্ধ চোখ ও স্বর্ণাভ অলঙ্করণ ভক্তদের মন জয় করছে।
চন্দননগরের এলইডি আলোকসজ্জা ও বিশেষ বার্তা
মণ্ডপ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় চন্দননগরের দক্ষ আলোশিল্পীদের নির্মিত আধুনিক এলইডি গেট ও রোশনাই বসানো হয়েছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশদূষণ রোধ এবং শব্দবাজি বর্জনের আবেদন জানিয়ে আলোকচিত্রের মাধ্যমে বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা
উৎসবে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে বারুইপুর থানা ও ক্লাবের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী যৌথভাবে প্রস্তুত:
- মণ্ডপ চত্বরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হয়েছে।
- ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি এবং পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে।
- অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দমকলের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও বালির ড্রাম মজুদ রয়েছে।
পুজো ও ভোগের সময়সূচি
- পূজা আরম্ভ: দীপাবলি অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে রাত ৯:০০ টায় তান্ত্রিক ও বৈদিক মতে হোম-যজ্ঞ শুরু হবে।
- ভোগ বিতরণ: পরদিন দুপুর ১২:০০ টা থেকে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে খিচুড়ি ও লাবড়া ভোগ বিতরণ করা হবে।
- ঠিকানা ও পৌঁছানোর উপায়: বারুইপুর স্টেশন থেকে অটো বা টোটো চেপে সরাসরি প্রগতি সংঘ ময়দানে পৌঁছানো যায়।
সম্পাদকীয় উৎসব ডেস্ক নোট: বারুইপুর অনলাইন বার্তা দলের নিজস্ব প্রতিনিধি প্রগতি সংঘ পুজো প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে এই বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)


