বারুইপুর রাসমাঠে জমজমাট বিজয়া সম্মিলনী ও সংগীত সন্ধ্যা: মঞ্চ মাতালেন গায়িকা জোজো ও অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমাঠের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য বিজয়া সম্মিলনী ও মেগা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জোজো মুখার্জি এবং বিশিষ্ট অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর উপস্থিতি ও পরিবেশনায় মেতে উঠলেন হাজার হাজার দর্শক।
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমাঠের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এ মরসুমের অন্যতম জমকালো বিজয়া সম্মিলনী ও মেগা সাংস্কৃতিক সংগীত সন্ধ্যা। স্থানীয় নাগরিক ও সাংস্কৃতিক প্রেমীদের বিপুল উপস্থিতিতে সমগ্র রাসমাঠ উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দর্শকাসনে ঝড় তোলেন বাংলার প্রখ্যাত ও শক্তিমান কণ্ঠশিল্পী জোজো মুখার্জি। বিশিষ্ট অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু ও পূজিতা ব্যানার্জীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি অবিস্মরণীয় রূপ নেয়।
গায়িকা জোজোর লাইভ পারফরম্যান্স ও সুরের মূর্ছনা
সন্ধ্যা নামতেই রাসমাঠের মূল মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গায়িকা জোজো মুখার্জি তাঁর একের পর এক জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি হিট গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। আধুনিক সুরের পাশাপাশি লোকসংগীত ও মেলোডি গানের তালে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক দর্শনার্থীরা একসাথে মেতে ওঠেন। জোজোর সুরেলা কণ্ঠ ও মঞ্চে সাবলীল উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর উপস্থিতি ও আন্তরিক আলাপচারিতা
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। বারুইপুরের দর্শকদের সাথে তিনি আন্তরিক স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। বারুইপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, খাদ্যসংস্কৃতি ও এখানকার মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মঞ্চে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা ও কৌতুকপূর্ণ সংলাপে দর্শকেরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।
ঐতিহ্যের রাসমাঠ ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো
বারুইপুরের রাসমাঠের সাথে জড়িয়ে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন রাস উৎসব ও সাহিত্য-সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ইতিহাস। আসন্ন রাস উৎসব ২০২৬-এর আগে এমন একটি সর্বজনীন বিজয়া সম্মিলনী এলাকার সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরও দৃঢ় করেছে। বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে বারুইপুর থানার পুলিশ কর্মী ও আয়োজক কমিটির কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন।
দর্শক ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকরা জানান, বারুইপুরের বুকে এত বড় মাপের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে। পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থ বিনোদন ও সংগীত উপভোগ করার এমন সুযোগ উৎসবের আমেজকে আরও মধুর করে তুলেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনগুলিতেও রাসমাঠকে কেন্দ্র করে এ ধরনের উচ্চমানের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
