বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সেরা রেস্তোরাঁ ও খাবারের ঠিকানা: বিরিয়ানি, ফ্যামিলি ডাইনিং ও বাজেট ফুড গাইড (Best Restaurants Near Baruipur Railway Station)
বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন ১ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে সেরা রেস্তোরাঁ, বিরিয়ানি হাউস, ক্যাফে ও মিষ্টির দোকানের পূর্ণাঙ্গ গাইড: দূরত্ব, মেনু, গড় খরচ, সময়সূচি ও ওয়াকিং রুট ম্যাপ।

বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সেরা রেস্তোরাঁ ও খাবারের ঠিকানা (Best Restaurants Near Baruipur Railway Station)
শিয়ালদহ দক্ষিণ রেলওয়ে শাখার অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম জংশন স্টেশন হলো বারুইপুর জংশন (Baruipur Junction)। প্রতিদিন ডায়মন্ড হারবার, নামখানা, কাকদ্বীপ ও ক্যানিং রুটের কয়েক লক্ষ নিত্যযাত্রী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী, অফিসফেরত নিত্যযাত্রী কিংবা স্থানীয় খাদ্যরসিক—সবারই অন্যতম প্রধান জিজ্ঞাসা থাকে: বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ভালো খাওয়ার জায়গা বা সেরা রেস্তোরাঁ কোনটি? (Baruipur restaurant near railway station)
বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম (পশ্চিম দিক / কুলপী রোড ও কাচারি বাজার দিক) এবং ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম (পূর্ব দিক / মাদারাট ও অটো স্ট্যান্ড দিক)—উভয় প্রান্তেই গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় ফুড হাব। এখানে যেমন রয়েছে কলকাতার খাঁটি স্বাদের দম বিরিয়ানি ও তন্দুরি, তেমনই রয়েছে চটজলদি এগ-চিকেন রোল, গরম চা-কচুরি এবং পরিবার নিয়ে বসে খাওয়ার আরামদায়ক এসি রেস্তোরাঁ।
এই নির্দেশিকায় স্টেশন থেকে হাঁটা দূরত্ব (১০০–৮০০ মিটার)-এর মধ্যে থাকা সেরা রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও মিষ্টির দোকানের বিস্তারিত তথ্য, মেনু স্পেশাল ও গড় খরচ তুলে ধরা হলো।
স্টেশনের কোন দিকে কী পাবেন? (Station Layout & Food Zones)
- ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিক (পশ্চিম প্রস্থান / স্টেশন রোড ও কুলপী রোড): এটি বারুইপুরের মূল বাণিজ্যিক ও ফুড করিডোর। স্টেশন থেকে বেরিয়েই পাবেন সারিবদ্ধ নামী মিষ্টির দোকান, এগ-চিকেন রোলের স্টল, ক্যাফে, নামী বিরিয়ানি কাউন্টার এবং ৫–৭ মিনিট হাঁটলে কাচারি বাজারের বড় এসি ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ।
- ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিক (পূর্ব প্রস্থান / মাদারাট ও অটো স্ট্যান্ড): এখানে পাবেন দ্রুত প্রাতরাশ ও টিফিনের দোকান—হিংয়ের কচুরি, আলুর দম, পরোটা, চায়ের ঠেক এবং বাজেট সুলভ সাধারণ হোটেল ও ধাবা।
স্টেশন সংলগ্ন সেরা রেস্তোরাঁ ও খাবারের তালিকা (Quick Comparison Table)
| রেস্তোরাঁর নাম | খাবারের ধরন / স্পেশালিটি | প্ল্যাটফর্ম ও দূরত্ব | গড় খরচ (২ জন) | এসি / বসার ব্যবস্থা | খোলার সময় | গুগল ম্যাপ লোকেশন |
|---|---|---|---|---|---|---|
| হাজি বিরিয়ানি হাউস (Haji Biryani) | কলকাতা চিকেন ও মটন বিরিয়ানি, মোঘলাই | ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম (১৫০ মিটার) | ₹২৫০ – ₹৪৫০ | নন-এসি / ডাইন-ইন ও টেকওয়ে | ১১:০০ AM – ১০:৩০ PM | স্টেশন মোড় সংলগ্ন |
| আমিনিয়া এক্সপ্রেস / রয়্যাল বিরিয়ানি | দম বিরিয়ানি, চিকেন চাপ, ফিরনি | স্টেশন রোড (২৫০ মিটার) | ₹৩৫০ – ₹৬০০ | এসি / ফ্যামিলি ডাইনিং | ১২:০০ PM – ১০:৪৫ PM | স্টেশন রোড |
| হ্যাংলা বাড়ি (Hangla Bari) | খাঁটি বাঙালি থালি, কষা মাংস, পোলাও | কুলপী রোড (৮০০ মিটার / টোটোয় ৩ মিনিট) | ₹৪০০ – ₹৭৫০ | এসি / আরামদায়ক ফ্যামিলি টেবিল | ১২:০০ PM – ১০:৩০ PM | কাচারি বাজার সংলগ্ন |
| ব্লু লেগুন রেস্তোরাঁ (Blue Lagoon) | চাইনিজ, তন্দুরি ও মাল্টি-কুইজিন | কাচারি রোড (৯০০ মিটার / টোটোয় ৪ মিনিট) | ₹৫০০ – ₹৯০০ | সেন্ট্রাল এসি / প্রিমিয়াম ডাইনিং | ১২:৩০ PM – ১০:৪৫ PM | পদ্মপুকুর মোড় রোড |
| ওয়াও! মোমো ও ক্যাফে কিয়স্ক (Wow! Momo) | স্টিম/ফ্রাইড মোমো, মোবার্গ, ঠান্ডা পানীয় | স্টেশন মার্কেট (২০০ মিটার) | ₹২০০ – ₹৪০০ | টেকওয়ে ও কুইক সিটিং | ১০:৩০ AM – ১০:০০ PM | স্টেশন রোড |
| সাথী রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুড (Sathi Restaurant) | ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, রোল, চাউমিন | স্টেশন ১ নম্বর গেট (১০০ মিটার) | ₹২০০ – ₹৪০০ | সাধারণ টেবিল / দ্রুত সার্ভিস | ১০:০০ AM – ১০:৩০ PM | রেলওয়ে ওভারব্রিজ নিচে |
| গৌরাঙ্গ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার (Gouranga Sweets) | রাধাবল্লভী, ছানার জিলিপি, রসগোল্লা | স্টেশন রোড (১৮০ মিটার) | ₹৮০ – ₹১৮০ | সকালের জলখাবার ও মিষ্টি | ৭:০০ AM – ৯:৩০ PM | স্টেশন রোড বাজার |
| বসন্ত কেবিন ও চায়ের ঠেক | দুধ চা, মালাই টোস্ট, ডিম টোস্ট, প্যাটিস | ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম গেট (৫০ মিটার) | ₹৪০ – ₹১০০ | কুইক কাম্পিউটার স্ন্যাকস | ৬:০০ AM – ১০:০০ PM | অটো স্ট্যান্ড সংলগ্ন |
১. বিরিয়ানি ও মোঘলাই রসনার সেরা ঠিকানা
১.১ হাজি বিরিয়ানি হাউস (Haji Biryani House - Baruipur Station More)
- অবস্থান: বারুইপুর জংশন স্টেশন থেকে বেরিয়েই ডানহাতে স্টেশন মোড়ের মুখে (দূরত্ব মাত্র ১৫০ মিটার)।
- বিশেষত্ব: অল্প তেলে তৈরি সুস্বাদু কলকাতা স্টাইল বিরিয়ানি। নরম তুলতুলে আলু, সুসিদ্ধ মাংসের টুকরো এবং হালকা সুগন্ধি চালের জন্য যাত্রীদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়।
- জনপ্রিয় পদ: স্পেশাল চিকেন বিরিয়ানি (₹১৪০–₹১৬০), মাটন বিরিয়ানি (₹১৮০–₹২২০), চিকেন চাপ ও মোঘলাই পরোটা।
- সুবিধা: ট্রেনের যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত দ্রুত ও পরিচ্ছন্ন অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেজিং।
১.২ আমিনিয়া এক্সপ্রেস / রয়্যাল বিরিয়ানি কর্নার
- অবস্থান: স্টেশন রোড, বারুইপুর (স্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে ৩ মিনিট)।
- বিশেষত্ব: যারা ট্রেনে ওঠার আগে বা পরিবার নিয়ে একটু নিরিবিলিতে এসি-তে বসে প্রিমিয়াম বিরিয়ানি খেতে চান, তাদের জন্য সেরা বিকল্প।
- জনপ্রিয় পদ: আওয়াধি মটন বিরিয়ানি, চিকেন রেশমি কাবাব, তন্দুরি রুটি ও জাফরানি ফিরনি।
২. পরিবার নিয়ে বসে খাওয়ার সেরা এসি রেস্তোরাঁ
২.১ হ্যাংলা বাড়ি (Hangla Bari - Kulpi Road)
- দূরত্ব: স্টেশন থেকে মাত্র ৮০০ মিটার। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে যেকোনো অটো বা টোটোয় চেপে কাচারি বাজারের মুখে নামলে ১ মিনিটেই পৌঁছানো যায়।
- পরিবেশ: সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সাবেকি বাঙালি থিমের সাজসজ্জা এবং মার্জিত পারিবারিক পরিবেশ।
- খাবারের স্বাদ: খাঁটি বাঙালি ভুরিভোজের জন্য সেরা। এখানকার বাসন্তী পোলাও, খাসির কষা মাংস, ভেটকি পাতুরি এবং ইলিশের পদ খাদ্যরসিকদের দারুণ পছন্দ।
২.২ ব্লু লেগুন রেস্তোরাঁ (Blue Lagoon Restaurant)
- দূরত্ব: স্টেশন থেকে প্রায় ৯০০ মিটার (কাচারি বাজার ও পদ্মপুকুরের মধ্যবর্তী অংশ)।
- বিশেষত্ব: চাইনিজ ও নর্থ ইন্ডিয়ান তন্দুরি ডিশের জন্য বারুইপুরের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্বস্ত রেস্তোরাঁ। বড় ফ্যামিলি ডাইনিং স্পেস ও জন্মদিন/উইকএন্ড আড্ডার উপযুক্ত।
৩. চটজলদি টিফিন ও ফাস্ট ফুড (হাঁটা দূরত্ব < ২০০ মিটার)
নিত্যযাত্রীদের অনেকেই ট্রেন ধরার তাড়ার মধ্যে থাকেন। তাদের জন্য স্টেশনের ১ নম্বর ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চত্বরে রয়েছে দারুণ সব কুইক-বাইট কাউন্টার:
- স্টেশনের বিখ্যাত ডিম-চিকেন রোল ও কাটলেট: ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওভারব্রিজ থেকে নামলেই ডানদিকের সারিবদ্ধ দোকানে পাবেন মুচমুচে লাচ্ছা পরোটায় মোড়া এগ-চিকেন রোল, গরম ফিশ ফ্রাই এবং চিকেন পকোড়া।
- ওয়াও! মোমো (Wow! Momo) ও বেকারি শপ: স্টেশন রোডে অবস্থিত মিয়ো আমোরে (Mio Amore) ও মঙ্গিনিসের আউটলেট থেকে ট্রেনের সফরের জন্য সহজেই পেস্ট্রি, চিকেন প্যাটিস ও মাফিন সংগ্রহ করতে পারেন।
৪. ঐতিহ্যবাহী প্রাতরাশ ও সকালের মিষ্টির ঠেক
সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন বা সাগরদ্বীপে ভ্রমণকারী পর্যটক এবং অফিসযাত্রীদের জন্য প্রাতরাশের দারুণ ঠিকানা:
- গৌরাঙ্গ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও ভোলানাথ সুইটস: স্টেশন রোডের শতাব্দীপ্রাচীন এই দোকানগুলিতে প্রতিদিন সকালে মেলে গরম গরম ছোলার ডাল সহ রাধাবল্লভী ও কচুরি। মিষ্টির মধ্যে এখানকার নতুন গুড়ের রসগোল্লা ও নলেন গুড়ের সন্দেশ অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- বসন্ত কেবিন (৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন): সকালের খাঁটি মাটির ভাঁড়ের আদা চা এবং গরম মালাই টোস্টের জন্য নিত্যযাত্রীদের প্রথম পছন্দ।
ভ্রমণকারী ও যাত্রীদের জন্য জরুরি টিপস
- 1প্যাকেজিং ও জার্নি ফ্রেন্ডলি ফুড: দূরপাল্লার লোকাল ট্রেনে ওঠার আগে খাবার প্যাক করালে ড্রাই আইটেম (রোল, বিরিয়ানি, প্যাটিস) বেছে নিন এবং দোকানদারকে ট্রেন ভ্রমণের কথা জানিয়ে ভালো করে সিল করিয়ে নিন।
- 2ডিজিটাল পেমেন্ট: স্টেশন চত্বরের প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁ ও ফুড স্টলেই গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe) ও পেটিএম (Paytm) ইউপিআই কার্যকর।
- 3রাতের খাবারের সময়: স্টেশন সংলগ্ন অধিকাংশ বিরিয়ানি ও খাবারের দোকান রাত ১০:৩০ থেকে ১১:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রাত ১১:০০ টার পর কেবল সীমিত কিছু চায়ের স্টল ও স্ন্যাকস খোলা পাওয়া যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাঁটা দূরত্বে সেরা রেস্তোরাঁ কোনটি?
বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে মাত্র ১৫০-২৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত হাজি বিরিয়ানি হাউস, আমিনিয়া এক্সপ্রেস এবং সাথী রেস্তোরাঁ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একটু এগিয়ে কুলপী রোডে গেলে হ্যাংলা বাড়ি ও ব্লু লেগুন সেরা এসি ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ।
বারুইপুর স্টেশনের কাছে সেরা বিরিয়ানি কোথায় পাওয়া যায়?
স্টেশন মোড়ের মুখে হাজি বিরিয়ানি হাউস এবং স্টেশন রোডের আমিনিয়া এক্সপ্রেস ও রয়্যাল বিরিয়ানি কর্নার খাঁটি কলকাতা স্টাইলের সুস্বাদু চিকেন ও মটন বিরিয়ানির জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত।
স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে কি খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে?
হ্যাঁ। ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মুখে অটো ও টোটো স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সকালে হিংয়ের কচুরি, আলুর দম, চায়ের ঠেক এবং বাজেট মূল্যের ঘরোয়া ভাতের হোটেল রয়েছে।
বারুইপুর স্টেশনের কাছে কি রাত ১০টার পর খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। স্টেশন রোডের বিরিয়ানি ও ফাস্ট ফুডের দোকানগুলি রাত ১০:৩০ থেকে ১১:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে ভালো সিটিং রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে চাইলে রাত ১০:১৫-এর মধ্যে পৌঁছানো বাঞ্ছনীয়।
প্রিয়ব্রত মণ্ডল(Priyabrata Mondal)
নাগরিক পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামো সংবাদদাতা • রেলপথ, পৌর পরিষেবা ও গণপরিবহন
শিয়ালদহ দক্ষিণ রেলওয়ে শাখা, বারুইপুর জংশন এবং ১৭টি ওয়ার্ডের নিকাশি, পানীয় জল ও নাগরিক সমস্যা কেন্দ্রিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)

