কালীপুজোর মুখে বারুইপুরের চম্পাহাটি বাজি বাজারে ব্যবসায়ীদের ভিড়: সবুজ বাজির বিক্রি কেমন, কী জানালেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা? | Champahati Green Crackers Market 2026
আসন্ন দীপাবলি উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিখ্যাত চম্পাহাটি ও হারাল বাজি বাজারে ক্রেতাদের সমাগম। পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি (Green Crackers), সরকারি কিউআর কোড যাচাই এবং চলতি মরশুমে বাজি ব্যবসার বাজারদর নিয়ে ব্যবসায়ীদের সরেজমিনে প্রতিক্রিয়া।
আসন্ন দীপাবলি ও শ্যামাপূজা উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমার চম্পাহাটি ও হারাল অঞ্চল এখন সরগরম। সমগ্র বাংলায় আতশবাজির এক অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক উৎপাদন ও পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চম্পাহাটি বাজারে ইতিমধ্যেই কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। মহামান্য আদালত ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কড়া নির্দেশিকা মেনে কেবলমাত্র পরিবেশবান্ধব 'সবুজ বাজি' (Green Crackers) বিক্রির ওপরেই জোর দিচ্ছেন চম্পাহাটির বাজিশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।
চলতি মরশুমে বাজি ব্যবসার হালহকিকত ও ব্যবসায়ীদের কথা
চম্পাহাটি বাজি বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিষিদ্ধ শব্দবাজির ওপর পুলিশ ও প্রশাসনের লাগাতার নজরদারির কারণে এবার পরিবেশবান্ধব রোশনাইযুক্ত আলোর বাজির চাহিদা তুঙ্গে:
- জনপ্রিয় আলোর বাজি: বিভিন্ন আকারের অভিনব তুবড়ি, সুগন্ধি রংমশাল, ফুলঝুরি, সোনাঝুরি, ঘুরন্ত চরকি এবং রাতের আকাশ আলোকিত করা রঙিন ফ্যান্সি শোর চাহিদা সর্বাধিক।
- দূষণ নিয়ন্ত্রণ: সরকারি নিয়ম মেনে তৈরি এই সবুজ বাজিগুলিতে বেরিয়াম নাইট্রেটের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক সম্পূর্ণ বর্জন করা হয়েছে, যার ফলে শব্দমাত্রা নির্দিষ্ট ৯০ ডেসিবেলের নিচে থাকে এবং ধোঁয়া প্রায় ৩০% থেকে ৪০% কম নির্গত হয়।
কিউআর কোড (QR Code) যাচাই ও ব্র্যান্ড সুরক্ষা
বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি সবুজ বাজির বাক্সে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CSIR-NEERI)-র অফিশিয়াল সবুজ লোগো এবং স্ক্যানযোগ্য কিউআর কোড বাধ্যতামূলক:
- ক্রেতারা দোকানে দাঁড়িয়ে নিজস্ব স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা কিউআর কোড স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করলেই প্রস্তুতকারক কারখানা ও সবুজ শংসাপত্র যাচাই করতে পারছেন।
- ব্যবসায়ীদের কথায়, সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তাঁরা সরাসরি কিউআর কোড দেখে নিরাপদ বাজি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।
বাজারদর ও দামের পরিস্থিতি
কাঁচামাল ও পরিবহণ খরচের বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় বাজি সামগ্রীর দামে গড়ে প্রায় ১০% থেকে ১৫% বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। তবে উৎসবের আবহে কেনাকাটায় তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি:
- বিভিন্ন আকারের ক্লাসিক তুবড়ির বাক্স ₹১৫০ থেকে ₹৪৫০ টাকা।
- বহুবর্ণিল রংমশাল ও ফুলঝুরি ₹৮০ থেকে ₹২৫০ টাকা।
- শিশুদের জন্য নিরাপদ পপ-পপ ও নন-টক্সিক স্পার্কলার্স সুলভ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
পুলিশি নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা
বারুইপুর পুলিশ জেলা ও চম্পাহাটি ফাঁড়ির পক্ষ থেকে বাজার চত্বরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি স্টলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, বালির বস্তা ও জলের ড্রাম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক পুলিশ পিকেট ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সম্পাদকীয় বাণিজ্য সংবাদ নীতি: বারুইপুর অনলাইন বাণিজ্যিক অনুসন্ধান ডেস্ক চম্পাহাটি বাজি বাজারের স্থানীয় প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

শুভ্রনীল নস্কর(Subhranil Naskar)
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক • মহকুমা প্রশাসন, নগরোন্নয়ন ও রাজনীতি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারুইপুর মহকুমার সমাজ, পৌর রাজনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহকুমার জনস্বার্থ ও অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতায় যুক্ত।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (3টি ছবি)


