ঐতিহাসিক মা শিবানীপীঠ ও বারুইপুরের প্রাচীন জাগ্রত কালীমন্দির: ইতিহাস, মাহাত্ম্য ও পুজো নির্দেশিকা
বারুইপুরের সুপ্রাচীন মা শিবানীপীঠের আধ্যাত্মিক ইতিহাস, সাধক সাধনা, অমাবস্যার বিশেষ পুজো এবং ধপধপির দক্ষিণা কালীবাড়ি সহ সংলগ্ন জাগ্রত কালীমন্দিরসমূহের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা।

খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ ও ভক্তিমার্গের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হলো বারুইপুরের মা শিবানীপীঠ। আদি গঙ্গার প্রবাহ সংলগ্ন এই অঞ্চলে বহু শতাব্দী ধরে শাক্ত সাধনা ও কালীপূজার এক গভীর ঐতিহ্য রয়েছে। শুধু শিবানীপীঠই নয়, বারুইপুর ও সংলগ্ন ধপধপি, কল্যাণপুর ও রাসমাঠ চত্বরে ছড়িয়ে রয়েছে বহু শতাব্দীপ্রাচীন জাগ্রত কালীমন্দির, যেখানে সারা বছর ভক্তরা মানসিক কামনায় ছুটে আসেন।
মা শিবানীপীঠের পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
বারুইপুর পুরসভার অন্তর্গত মা শিবানীপীঠ এক অপার আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত। কথিত আছে, বহু বছর আগে এক সিদ্ধ তান্ত্রিক সাধক আদি গঙ্গার শান্ত নির্জন তীরবর্তী এই স্থানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে মাতৃ আরাধনা করতেন। সাধকের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে দেবী এখানে 'মা শিবানী' রূপে আবির্ভূত হন।
মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীর বিগ্রহ অপূর্ব স্নেহময়ী ও করুণার প্রতীক। রক্তবর্ণ বেদির ওপর চতুর্ভুজা শ্যামা রূপের এই প্রতিমা দর্শন করলে মনের সকল অশান্তি দূর হয় বলে ভক্তদের বিশ্বাস। বিশেষ করে প্রতি মাসের অমাবস্যা তিথিতে এবং দীপান্বিতা কালীপূজায় এখানে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ মানত পূরণ ও ডালি দিতে আসেন।
বারুইপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের অন্যান্য জাগ্রত কালীমন্দির
- ধপধপি দক্ষিণা কালীবাড়ি (Dhapdhapi Dakshina Kali Mandir):
- বারুইপুর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধপধপির এই কালীমন্দির প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন। সুবিশাল নাটমন্দির ও শান্ত পুষ্করিণী বেষ্টিত এই মন্দিরে নিষ্ঠাভরে অনুষ্ঠিত হয় নিত্যপূজা ও অমাবস্যার বিশেষ হোমযজ্ঞ।
- বারুইপুর রাসমাঠ শ্মশানকালী মন্দির:
- ঐতিহাসিক রাসমাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাটের প্রাচীন শ্মশানকালী মন্দিরটি স্থানীয় তান্ত্রিক ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী। দীপান্বিতা অমাবস্যার গভীর রাতে এখানে শাস্ত্রীয় বিধিমতে বিশেষ তন্ত্রোক্ত পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
- কল্যাণপুর বুড়িমা কালীমন্দির:
- গ্রামীণ কৃষকদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যে লালিত কল্যাণপুরের জাগ্রত বুড়িমা। ফসল কাটার আগে ও পারিবারিক শুভ কাজে এই মন্দিরে পুজো দেওয়ার প্রাচীন লোকরীতি রয়েছে।
পুজো দেওয়ার নিয়মাবলী, ভোগ ও দর্শন সময়সূচি
- মন্দির খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৬:০০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত এবং বিকেলে ৪:০০টা থেকে রাত ৮:৩০টা পর্যন্ত মন্দির গর্ভগৃহ খোলা থাকে।
- অমাবস্যার বিশেষ পুজো: প্রতি অমাবস্যায় ভোর থেকে শুরু হয় বিশেষ পুজো ও চণ্ডীপাঠ। দুপুরবেলায় ভক্তদের মাঝে খিচুড়ি, লাবড়া ও পায়েসের অন্নভোগ বিতরণ করা হয়।
- পূজার ডালি: মন্দিরের বাইরের প্রাঙ্গণে ফুল, বেলপাতা, লাল জবা, ধূপ ও মিষ্টির থালি সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিকশা, টোটো বা অটোতে মাত্র ১০-১৫ মিনিটে শিবানীপীঠ মন্দিরে পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে বারুইপুর কুলপী রোড বা বাইপাস হয়ে সরাসরি মন্দির প্রাঙ্গণে যাওয়া সম্ভব।
সম্পাদকীয় নীতি: স্থানীয় ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঠিক ও প্রামাণ্য বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই তথ্য সংকলন করা হয়েছে।

শুভ্রনীল নস্কর(Subhranil Naskar)
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক • মহকুমা প্রশাসন, নগরোন্নয়ন ও রাজনীতি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারুইপুর মহকুমার সমাজ, পৌর রাজনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহকুমার জনস্বার্থ ও অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতায় যুক্ত।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (2টি ছবি)

