সরকারি অফিসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নির্দিষ্ট ছবি ব্যবহারের প্রশাসনিক নির্দেশিকা: সুভাষগ্রাম ও বারুইপুরে উৎসাহ
রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, বিদ্যালয় ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত ছবি প্রদর্শনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রশাসন। সুভাষগ্রাম কোদালিয়ায় নেতাজির পৈতৃক ভিটে থাকায় বারুইপুর মহকুমায় এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে মনীষীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের স্থানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত ঐতিহাসিক ছবিই টাঙাতে হবে। বসু পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত এই বিশিষ্ট প্রতিকৃতিটিকেই সরকারি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সুভাষগ্রাম-কোদালিয়ার সাথে নেতাজির গভীর যোগসূত্র
বারুইপুর মহকুমার সুভাষগ্রাম (পূর্বতন চাঙ্গড়িপোতা ও কোদালিয়া) অঞ্চলটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈতৃক ভিটে হিসেবে সারা দেশে সম্মানিত। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক সুভাষ ভবন ও বসু পরিবারের শতাব্দীপ্রাচীন ভিটেবাড়ি। তাই এই সরকারি সিদ্ধান্ত বারুইপুর মহকুমা ও সুভাষগ্রাম অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এক বিশেষ গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
বিভ্রান্তি দূরীকরণে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ
সরকারি কার্যালয়গুলিতে আগে নেতাজির নানা ধরনের স্কেচ ও অপ্রমাণিত ছবি ব্যবহৃত হওয়ায় বহু ক্ষেত্রেই তথ্যনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ণ হতো। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নেতাজির আইএনএ (INA) পোশাকের মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে অক্ষুণ্ণ রেখে একটি মানসম্মত পোর্ট্রেট সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েত, পৌরসভা, বিডিও অফিস, মহকুমা আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও প্রবীণ শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ দেশনায়ক নেতাজির প্রতিকৃতি যেন যথাযথ ঐতিহাসিক মর্যাদা পায়, তা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিক ও প্রশাসনের কর্তব্য। নতুন প্রজন্মের কাছে নেতাজির জীবনাদর্শ ও আত্মত্যাগ তুলে ধরতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুভাষগ্রামে স্মৃতিসৌধ ও পাঠাগারের উন্নয়ন
এই নির্দেশিকার পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সুভাষগ্রামের পৈতৃক ভিটেবাড়িকে আরও আধুনিক পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বারুইপুর মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেতাজি জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক স্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
