বেলপাহাড়িতে মর্মান্তিক পরিণতি: ৩০ ঘণ্টা পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার বারুইপুরের মায়ের দেহ, শোকের ছায়া
বেলপাহাড়িতে মর্মান্তিক পরিণতি: ৩০ ঘণ্টা পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার মায়ের দেহ, শোকের ছায়া এলাকায় বারুইপুরের বাসিন্দা প্রীতি দত্ত, যিনি বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে নিজের...

খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
বেলপাহাড়িতে মর্মান্তিক পরিণতি: ৩০ ঘণ্টা পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার মায়ের দেহ, শোকের ছায়া এলাকায়
বারুইপুরের বাসিন্দা প্রীতি দত্ত, যিনি বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে নিজের সাত বছরের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলের স্রোতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, অবশেষে তাঁর খোঁজ মিলল। কিন্তু পরিণতি হল অত্যন্ত মর্মান্তিক। টানা ৩০ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর আজ রবিবার তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শনিবার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ছেলে হঠাৎ পা পিছলে জলে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনের পরোয়া না করে জলে ঝাঁপ দেন বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা প্রীতি। উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যান মা।
শনিবার থেকেই শুরু হয় তল্লাশি। আজ, রবিবার সকাল থেকে হুগলির আরামবাগ থেকে আসা এনডিআরএফ (NDRF)-এর ৩০ জন সদস্য, সিভিল ডিফেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। শেষমেশ জলপ্রপাতের একটি অংশে জল আটকে সরিয়ে দিয়ে একটি খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
এই মর্মান্তিক খবরে বারুইপুর এবং বেলপাহাড়ি—দুই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন মায়ের এই চরম আত্মত্যাগ ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ সকলে। একইসঙ্গে পাহাড়ি নদী ও জলপ্রপাতের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে গেলে পর্যটকদের অকারণে ঝুঁকি না নেওয়ার ও আরও বেশি সতর্ক থাকার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে পুনরায় আবেদন জানানো হচ্ছে।
ঘটনার প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় বিবরণ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সুরক্ষায় বারুইপুর পুলিশ জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বারুইপুর মহকুমা আদালত, থানা এবং বিশেষ গোয়েন্দা শাখা (DIB) অপরাধ দমন ও দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়ায় তৎপর। মহকুমার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় টহলদারি জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নাকা চেকিং ও সিসিটিভি নজরদারি চালানো হয়।
নাগরিক সচেতনতা ও সাধারণ জনজীবনের প্রভাব
এই ধরনের স্থানীয় খবরাখবর ও ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের সতর্কতা এবং প্রশাসনের সাথে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করাই কাম্য। বারুইপুর অনলাইন স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার জন্য সরাসরি গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সরকারি নির্দেশিকা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।
জরুরি প্রশাসনিক হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
- জরুরি পুলিশ সহায়তা: ১১২ / ১০০ | বারুইপুর পুলিশ জেলা কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-০৪০০ | বারুইপুর থানা: ০৩৩-২৪৩৩-৮২২২ / ০৩৩-২৪৩৩-৮২২৩
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা ও ফ্যাক্ট-চেক নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব অনুসন্ধানী ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সংবাদ সূত্রের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি সংকলিত ও পরিমার্জিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রচারিত এই তথ্যে কোনো সংশোধন থাকলে আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।
অনিমেষ মুখার্জী(Animesh Mukherjee)
সিনিয়র ক্রাইম ও জেলা প্রশাসন প্রতিনিধি • আইনশৃঙ্খলা, আদালত ও পুলিশ প্রশাসন
বারুইপুর পুলিশ জেলা, মহকুমা আদালত ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়মিত গ্রাউন্ড রিপোর্টার।