আসন্ন কালীপূজা ও ছটপূজায় বাজি পোড়ানোর সরকারি নির্দেশিকা: পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি (Green Crackers), নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বারুইপুর পুলিশের কড়া নজরদারি | Kali Puja Firecracker Guidelines 2026
আসন্ন দীপাবলি, শ্যামাপূজা ও ছটপূজা উপলক্ষে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে জারি হলো কঠোর বিধিনিষেধ। কেবলমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি (Green Crackers) নির্দিষ্ট ২ ঘণ্টার সময়সীমায় ব্যবহার করা যাবে। নিষিদ্ধ শব্দবাজি রুখতে চম্পাহাটি ও বারুইপুর মহকুমা জুড়ে বিশেষ পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।

আসন্ন কালীপূজা, দীপাবলি এবং ছটপূজার উৎসব মরশুমে শব্দ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নবান্নে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধীনাথ গুপ্ত, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে সমগ্র রাজ্যে কেবলমাত্র কিউআর কোডযুক্ত বৈধ "সবুজ বাজি" (Green Crackers) পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যে কোনো ধরনের সাধারণ শব্দবাজি, তীব্র আওয়াজের পটকা এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যালযুক্ত বাজি বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কড়া ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজি পোড়ানোর সরকারি সময়সীমা
উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ নাগরিক, প্রবীণ মানুষ এবং পশুপাখিদের সুরক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- কালীপূজা ও দীপাবলির দিন: রাত ৮:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা)।
- ছটপূজার দিন: সকাল ৬:০০ টা থেকে সকাল ৮:০০ টা পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা)।
- বাকি দিনগুলিতে: কোনো প্রকার বাজি পোড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সবুজ বাজি (Green Crackers) চেনার উপায় ও কিউআর কোড
সাধারণ ক্রেতাদের সচেতন করতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, আসল সবুজ বাজির প্যাকেটে অবশ্যই CSIR-NEERI অনুমোদিত সবুজ লোগো এবং কিউআর কোড (QR Code) মুদ্রিত থাকবে। স্মার্টফোনে সেই কিউআর কোড স্ক্যান করলে বাজির রাসায়নিক উপাদান ও বৈধতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। অনুমোদনহীন কোনো সাদা বা হাতে তৈরি প্যাকেট কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চম্পাহাটি ও বারুইপুর মহকুমায় পুলিশের চিরুনি তল্লাশি
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি ও হাড়াল এলাকা ঐতিহ্যগতভাবে আতশবাজি ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। উৎসবের মুখে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে নিষিদ্ধ শব্দবাজি মজুদ বা পাচার করতে না পারে, তার জন্য বারুইপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
- লাইসেন্সবিহীন অবৈধ বাজি কারখানার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
- বারুইপুর রেলওয়ে স্টেশন, কুলপী রোড এবং বাইপাসের নাকা পয়েন্টগুলিতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
- হাসপাতালের সাইলেন্ট জোন, স্কুল প্রাঙ্গণ ও নার্সিংহোমের ১০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো প্রকার বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জরুরি দমকল ও পরিবেশ হেল্পলাইন
- রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কন্ট্রোল রুম: ১৮০০-৩৪৫-৩৩৯০
- জরুরি দমকল পরিষেবা: ১০১
- বারুইপুর ফায়ার স্টেশন: ০৩৩-২৪৩৩-৮২৩০
- বারুইপুর পুলিশ কন্ট্রোল রুম: ০৩৩-২৪৩৩-০৪০০
পরিবেশ ও নাগরিক বার্তা: উৎসবের আনন্দ যেন কারও কষ্টের কারণ না হয়। শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ প্রতিবেশীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব উৎসব উদযাপনে সামিল হোন।
প্রিয়ব্রত মণ্ডল(Priyabrata Mondal)
নাগরিক পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামো সংবাদদাতা • রেলপথ, পৌর পরিষেবা ও গণপরিবহন
শিয়ালদহ দক্ষিণ রেলওয়ে শাখা, বারুইপুর জংশন এবং ১৭টি ওয়ার্ডের নিকাশি, পানীয় জল ও নাগরিক সমস্যা কেন্দ্রিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।