রাসমাঠের সাবর্ণ রায়চৌধুরী রাজবাড়ির পুজো: ৩৫০ বছরের বনেদিয়ানা, ঐতিহ্যবাহী নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি ও ইতিহাস
দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাচীনতম জমিদারি শারদোৎসব সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের বারুইপুর রাসমাঠের রাজবাড়ি দুর্গাপূজা। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো খাঁটি একচালা প্রতিমা, সন্ধিপূজায় বন্দুকধ্বনি এবং দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রাচীন স্মৃতি।
খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
বারুইপুরের বন্ধুদের কাছে সত্য খবর পৌঁছে দিন
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন
আধুনিক চোখধাঁধানো থিমের যুগেও বারুইপুরের শারদোৎসবে আজও অমলিন ঐতিহ্য ও সাবেকি বনেদিয়ানার শ্রেষ্ঠ প্রতীক সাবর্ণ রায়চৌধুরী রাজবাড়ির দুর্গাপূজা। রাসমাঠ চত্বরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ঠাকুরদালানে প্রতিবছর মহাষষ্ঠী থেকেই ভিড় জমান মহকুমার হাজার হাজার ভক্ত ও ইতিহাসপ্রেমী দর্শনার্থী।
প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী পূর্বে জমিদারি আমলে প্রবর্তিত এই পূজায় আজও নিষ্ঠার সাথে মেনে চলা হয় প্রাচীন শাস্ত্রীয় আচার-রীতি। দেবীর প্রতিমা সম্পূর্ণ সনাতনী একচালা কাঠামোর, স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারে সজ্জিতা। বৈষ্ণব ও শাক্ত রীতির সংমিশ্রণে পূজিত হন দেবী দুর্গা।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও ইতিহাসবিদদের মতে, জমিদারির স্বর্ণযুগে সন্ধিপূজার মাহেন্দ্রক্ষণে কামান ও বন্দুকের গর্জন শুনে আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষ সন্ধিপূজার অঞ্জলি শুরু করতেন। বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রাক্কালে কৈলাসে শিবের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে ঠাকুরদালান থেকে জীবন্ত 'নীলকণ্ঠ পাখি' মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়ার রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক রীতি এই রাজবাড়ির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, যা পরবর্তীতে প্রতীকীভাবে পালন করা হয়।
সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন বিশেষ অন্নভোগ ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকে। রাসমাঠের রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে পা রাখলেই দর্শনার্থীরা ফিরে যান মধ্যযুগের বাংলার বনেদি সংস্কৃতির এক স্মৃতিমেদুর আবহে।
ঘটনার প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় বিবরণ
বারুইপুরের সংস্কৃতি শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে। এখানকার বিখ্যাত ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাসমাঠের মেলা, পদ্মপুকুরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপূজা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে অত্যন্ত সমাদৃত। স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যদল ও সঙ্গীত অ্যাকাডেমি সারা বছর ধরে শিল্প ও সাহিত্যের নানা কর্মসূচি উদযাপন করে থাকে।
নাগরিক সচেতনতা ও সাধারণ জনজীবনের প্রভাব
এই ধরনের স্থানীয় খবরাখবর ও ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের সতর্কতা এবং প্রশাসনের সাথে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করাই কাম্য। বারুইপুর অনলাইন স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার জন্য সরাসরি গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সরকারি নির্দেশিকা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।
জরুরি প্রশাসনিক হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
- বারুইপুর রবীন্দ্র ভবন ও সংস্কৃতি দপ্তর: ০৩৩-২৪৩৩-৮২৬০ | স্থানীয় নাগরিক তথ্য সেল: [email protected]
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা ও ফ্যাক্ট-চেক নীতি: বারুইপুর অনলাইন বার্তা ডেস্কের নিজস্ব অনুসন্ধানী ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সংবাদ সূত্রের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি সংকলিত ও পরিমার্জিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রচারিত এই তথ্যে কোনো সংশোধন থাকলে আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।
মৌসুমী সেনগুপ্ত(Mousumi Sengupta)
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা প্রতিনিধি • ঐতিহ্য, রাসমেলা, শিক্ষা ও সমাজসেবা
বারুইপুরের ঐতিহাসিক রাসমেলা, রাজবাড়ি, প্রাচীন লোকউৎসব, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিবন্ধকার।
প্রতিবেদনের ছবি সংকলন (5টি ছবি)




